প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন বাহিনীর হামলা, নিহত ৪

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে জলযানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর ধারাবাহিক হামলার চতুর্থ দিনে আরও চারজন নিহত হয়েছেন। গত চার দিনে এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর চতুর্থ প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এই হামলার কথা নিশ্চিত করেছে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম)। পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাগরে স্থির হয়ে থাকা একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা মিসাইল হামলার শিকার হয়ে বিশাল আগুনের কুণ্ডলীতে পরিণত হচ্ছে।

ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা সাউথকম দাবি করেছে, নিহত চারজন ‘নারকো-সন্ত্রাসী’ (মাদক চোরাচালানের সাথে যুক্ত সন্ত্রাসী)। তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তারা উপস্থাপন করেনি।

হামলার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে সাউথকম জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ওই জলযানটি পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পরিচিত মাদক পাচার রুট দিয়ে যাচ্ছিল এবং তারা মাদক পাচার কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিল। তবে এই গোয়েন্দা তথ্যের কোনো বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

গত সেপ্টেম্বর থেকে ল্যাটিন আমেরিকার কার্টেলগুলোর মাদক পাচার রুখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নির্দেশের পর থেকে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৫ জনে। হোয়াইট হাউসের দাবি, এসব কার্টেল যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার করছে।

সবশেষ এই হামলার আগে গত সোমবার মার্কিন হামলায় ২ জন এবং গত শনিবার পৃথক দুটি হামলায় আরও ৫ জন নিহত হন। এদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, শনিবারের ঘটনায় নিখোঁজ থাকা একজনের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান স্থগিত করেছে মার্কিন কোস্টগার্ড।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই সামরিক অভিযানকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, এসব হামলায় সাধারণ মাছ ধরার নৌকাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনো জলযান মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্তও থাকে, তবে তাদের ওপর সরাসরি প্রাণঘাতী হামলা না চালিয়ে আইনের আওতায় আনা উচিত।

সমালোচকরা এই অভিযানের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেন্টানিল সংকটের কথা বলে এই অভিযানের ন্যায্যতা দিলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর জন্য দায়ী অধিকাংশ ফেন্টানিল মূলত স্থলপথে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে। এসব মাদক মেক্সিকোতে চীন ও ভারত থেকে আমদানি করা রাসায়নিক ব্যবহার করে তৈরি করা হয়।

সূত্র: আল-জাজিরা