বুটের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েও লড়াই ছাড়েননি ফিরমিন লোপেজ

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচটি বার্সেলোনার জন্য কেবল ফুটবলীয় লড়াই ছিল না, ছিল আক্ষরিক অর্থেই এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। মঙ্গলবার রাতে স্পেনের রাজধানীতে এক ভয়াবহ মুহূর্তের সাক্ষী হন ফুটবল ভক্তরা, যখন আতলেতিকো গোলরক্ষক হুয়ান মুসোর বুটের আঘাতে মুখ রক্তাক্ত হয়ে যায় বার্সা মিডফিল্ডার ফিরমিন লোপেজের মুখ!

ম্যাচ শুরুর আগেই ফিরমিন লোপেজ মাথায় একটি হেডব্যান্ড বেঁধে মাঠে নেমেছিলেন। কারণ ছিল অনুশীলনের সময় হওয়া এক সংঘর্ষে মাথায় ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় কয়েকটা সেলাই দিতে হয়েছিল। সেই পুরনো ক্ষত আর ব্যান্ডেজ নিয়েই লড়ছিলেন তিনি। কিন্তু প্রথমার্ধে আবারও দুর্ঘটনার শিকার হন এই তরুণ তারকা।

একটি বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে আতলেতিকো গোলরক্ষক হুয়ান মুসোর পা সরাসরি ফিরমিনের মুখে গিয়ে লাগে। মুসোর বুটের স্পাইকের আঘাতে মুহূর্তেই মাঠে লুটিয়ে পড়েন ফিরমিন। টেলিভিশনের ক্যামেরায় তার মুখ থেকে অঝোর ধারায় রক্ত ঝরতে দেখা যায়, যা দেখে মাঠে থাকা খেলোয়াড় ও গ্যালারির দর্শকদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

মাঠে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ রেখে বার্সেলোনার মেডিকেল স্টাফরা দ্রুত তার প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিরতিটি বার্সেলোনার জন্য খুব একটা ভালো ফল বয়ে আনেনি। তখন লামিন ইয়ামাল ও ফেরান তোরেসের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল বার্সা। ফিরমিনের চিকিৎসার জন্য খেলার গতি কিছুটা কমে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজে পায় আতলেতিকো।

তবে এমন ভয়াবহ জখমও **ফিরমিন লোপেজকে** মাঠ থেকে সরিয়ে নিতে পারেনি। প্রচণ্ড ব্যথা আর রক্তাক্ত মুখ নিয়েও ব্যান্ডেজ বেঁধে খেলা চালিয়ে যান তিনি। তার এই লড়াকু মানসিকতা বার্সা শিবিরে বড় অনুপ্রেরণা যোগালেও দিনশেষে এগ্রিগেটে পিছিয়ে থেকে বিদায় নিতে হয়েছে কাতালানদের। তবে ম্যাচ শেষে সমর্থকদের মনে দাগ কেটে গেছে ফিরমিনের সেই রক্তাক্ত কিন্তু অবিচল চেহারাটি।