ইডকল ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে সবুজ শিল্পায়নে নতুন দিগন্ত

ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ আজ বাংলাদেশের শিল্প খাতে জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব তুলে ধরেছে। ১২ এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে এই অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়, যেখানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দেশের টেকসই শিল্পায়ন অগ্রযাত্রায় যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

এই অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে, ইডকল তার এনার্জি এফিশিয়েন্সি ফাইন্যান্সিং উইন্ডোর আওতায় কালীগঞ্জ অ্যাগ্রো প্রসেসিং লিমিটেডকে ২০০ কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে, যার মাধ্যমে জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কার্যক্রমের সামগ্রিক দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আধুনিক ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যবস্থার প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন।
এছাড়াও, ইডকল বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে একাধিক রুফটপ সোলার প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে, যার সম্মিলিত স্থাপিত সক্ষমতা প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে রয়েছে চোরকা টেক্সটাইলস লিমিটেড (২.৯৩ মেগাওয়াট), গঙ্গা ফাউন্ড্রি লিমিটেড (১.৫৬ মেগাওয়াট), রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (৩.০৮ মেগাওয়াট) এবং সিলভান টেকনোলজিস লিমিটেড (২৭.৩৮ মেগাওয়াট)- যা বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়নাধীন।

এই বিনিয়োগসমূহ কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, জ্বালানি ব্যয় কমানো এবং বৈশ্বিক জ্বালানি দামের অস্থিরতার ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা করবে। পাশাপাশি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণেও এসব উদ্যোগ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে রাখবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে ইডকলের নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর মোরসেদ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশটি এখন কেবল জ্বালানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করার পর্যায় থেকে জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বিত ব্যবহারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা শিল্প খাতের চাহিদা ও বৈশ্বিক জলবায়ু প্রতিশ্রুতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এই অংশীদারিত্ব বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তিত বাস্তবতাকেও প্রতিফলিত করে, যেখানে প্রতিযোগিতার অন্যতম নির্ধারক হিসেবে টেকসই উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ তাদের কার্যক্রমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সংযুক্ত করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করছে, যেখানে ক্রেতারা ক্রমেই নিম্ন-কার্বন উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।