লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজদের ইন্টার মায়ামিতে হঠাৎ বড় ধাক্কা। ক্লাবকে প্রথম এমএলএস কাপ জেতানো কোচ হাভিয়ের মাশচেরানো অপ্রত্যাশিতভাবে প্রধান কোচের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ২০২৬ মৌসুমের মাত্র সাতটি ম্যাচ পার হতেই আর্জেন্টাইন এই কোচের প্রস্থানে ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আলোচনা চলছে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও।
২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর মায়ামিকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন মাশচেরানো। তার অধীনেই গত বছর (২০২৫) ক্লাবটি তাদের ইতিহাসের প্রথম মেজর লিগ সকার (এমএলএস) শিরোপা ঘরে তোলে। কিন্তু চলতি মৌসুমে দল পয়েন্ট টেবিলের তিনে থাকলেও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়ালেন তিনি।
বিদায়বেলায় আবেগপ্রবণ মাশচেরানো বলেন, ‘আমি সবাইকে জানাতে চাই যে, ব্যক্তিগত কারণে ইন্টার মায়ামির প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের প্রথম শিরোপার স্মৃতি আমি সবসময় হৃদয়ে লালন করব। আমি যেখানেই থাকি না কেন, এই ক্লাবের জন্য সবসময় শুভকামনা থাকবে।’
মাশচেরানোর আকস্মিক বিদায়ে শূন্যতা পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে মায়ামি কর্তৃপক্ষ। ক্লাবের বর্তমান স্পোর্টিং ডিরেক্টর এবং বার্সেলোনার সাবেক ‘বি’ টিম কোচ গুইলারমো হোয়োসকে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, হোয়োস দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নন।
মাশচেরানো চলে যাওয়ার পর থেকেই মায়ামির পরবর্তী বস হিসেবে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে বার্সেলোনা কিংবদন্তি জাভি হার্নান্দেজের নাম। এমএলএস বিশ্লেষক টেলর টোয়েলম্যানের মতে, জাভি ও মায়ামির এই বন্ধন হবে পারফেক্ট কম্বিনেশন। বার্সেলোনায় এক দশকেরও বেশি সময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলেছেন তারা। জাভির প্রতিটি পাস আর মেসির ফিনিশিং ছিল একসময় ফুটবল বিশ্বের বিষ্ময়।
মায়ামির স্কোয়াডে বর্তমানে মেসি ছাড়াও আছেন লুইস সুয়ারেজ, জর্দি আলবা এবং সার্জিও বুসকেটস। এদের সবার সাথেই জাভির রয়েছে দারুণ ব্যক্তিগত ও পেশাদার বোঝাপড়া। তাছাড়া বার্সেলোনা ছাড়ার পর থেকে জাভি বর্তমানে কোনো ক্লাবের সাথে চুক্তিবদ্ধ নন। টোয়েলম্যানের ভাষায়, ‘যখন দলে মেসির মতো তারকা থাকে, তখন বিকল্পের অভাব হয় না। জাভি বর্তমানে ফ্রি আছেন এবং মেসিদের সাথে তার সম্পর্ক দারুণ। তাই তাকে মায়ামির ডাগআউটে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।’
সাত ম্যাচে ৩ জয় ও ১ ড্র নিয়ে টেবিলের সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা মায়ামি কি আবারও কোনো বার্সা কিংবদন্তির হাতেই নিজেদের ভবিষ্যৎ তুলে দেবে? উত্তরটা জানতে হয়তো আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে ফুটবল সমর্থকদের।