সারা দেশে পহেলা বৈশাখে নববর্ষ পালিত হলেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিন পরে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয়েছে। ছুটির দিনে উপস্থিতি কম হওয়ার আশঙ্কায় একদিন পর আয়োজন করলেও বিগত বছরগুলোর চেয়ে তুলনামূলক কম উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এদিকে আয়োজনে অংশ নেয়নি বিভিন্ন বিভাগ ও ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন। নববর্ষ পালনের বিষয়ে দাওয়াত পায়নি বলে অভিযোগ করেন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
নববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে বুধবার (১৫ এপ্রিল) আনন্দ শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বাংলা বিভাগ। এদিন বেলা ১১টায় প্রশাসনের আয়োজনে প্রশাসন ভবন চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাংলা মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সমবেত হয়।
অনুষ্ঠানে ‘চার শতকের বর-বধুর বিবাহের সাজ-সজ্জা ও আচারের বিবর্তনের খণ্ডচিত্র’ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বিসর্জন’ নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। এছাড়া গোপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর শোলার শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করা হয়।
এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান ও ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলামসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
একদিন পর আয়োজনের বিষয়ে নববর্ষ উদযাপন কমিটির আহবায়ক ড. মনজুর রহমান বলেন, ‘গতকাল সরকারি ছুটি হওয়ায় ক্যাম্পাসে সাধারণত মানুষজন থাকে না। তাই আজকে নববর্ষের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সকলকেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। ছাত্রসংগঠনকেও বলা হয়েছে। তবে অনেককে একটু দেরিতে জানানো হয়েছে। কারণ অনুষ্ঠানের তারিখ নিয়ে একটু কনফিউশান ছিল। এখন সংগঠনগুলো কেন অংশ নেয়নি সে বিষয়ে বলতে পারাবো না। তবে অনুষ্ঠান খুবই সুন্দর হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, বৈশাখ আসে পুরানোকে ঝেড়ে ফেলে নতুনকে জাগ্রত করার জন্য। এইজন্যে আমরা বৈশাখে নব আনন্দে উদ্বেলিত হই। বর্ষবরণ বাঙালি সংস্কৃতির সাথে অবিচ্ছদ্যভাবে জড়িত। বৈশাখ আমাদের হৃদয়ে নতুন জীবনের বাঁশি বাজায়, আমাদের স্বপ্ন-সাধকে জাগ্রত করে।