স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর অশ্লীল ছবি ছড়ানোর অভিযোগ

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ দায়েরের পরও থানা পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ভুক্তভোগী সামাজিক ও মানসিকভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। 

অভিযুক্ত নাহিদ মিয়া (২৩) ঘিওর উপজেলার ভালকুটিয়া গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী গত ৫ এপ্রিল শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিবালয় উপজেলার নিহন্দ গ্রামের ২০ বছর বয়সী ওই নারীর সঙ্গে ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি নাহিদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী নাহিদ ও তার মা রেনু বেগম নানা অজুহাতে ভুক্তভোগীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা তাকে অনৈতিক কাজে জড়াতে চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়ে।

এরই মধ্যে তাদের একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। অভিযোগে বলা হয়, স্বামী কৌশলে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে রাখে এবং অনৈতিক কাজে রাজি না হলে সেগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী গত ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে তার দুই বছরের ছেলে রাফছানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। এরপর ৩ এপ্রিল গভীর রাতে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তি ফোন করে তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে রাজি না হলে ওই ব্যক্তি জানায়, তার আপত্তিকর ছবি ও ফোন নম্বর ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

পরে ভুক্তভোগী তার নিজের ও বাবার ফোন নম্বরসহ আপত্তিকর পোস্টের স্ক্রিনশট পান। এর পর থেকে বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে তাকে অশালীন প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী জানান, ‘স্বামী আমাকে মানিকগঞ্জে বাসা ভাড়া নিয়ে দেহব্যবসা করতে বাধ্য করতে চেয়েছিল। রাজি না হওয়ায় আমাকে মারধর করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি থানায় মামলা করার পরামর্শ দেন।’

ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘সুখের আশায় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন সে চরম নির্যাতনের শিকার। আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে পড়ায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছে। আমরা বিচার চাই।’

এ বিষয়ে শিবালয় থানার ওসি মো. মনির হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে, তবে এখনো মামলা রেকর্ড করা হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবালয় সার্কেল) সাদিয়া সাবরিনা চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’