ক্রিকেট মাঠে বিরাট কোহলি মানেই আগ্রাসন, প্যাশন আর পুরো ১০০ ভাগ নিবেদন। যাকে এক মুহূর্তের জন্যও মাঠের বাইরে রাখা কঠিন। সেই বিরাট কোহলিকেই কি না শেষ পর্যন্ত এমন কিছু করতে হলো, যা তিনি ব্যক্তিগতভাবে কখনোই পছন্দ করেন না। আইপিএলের দীর্ঘ ১৯ বছরের ক্যারিয়ারে যা কখনো ঘটেনি, ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে সেটিই দেখল ক্রিকেট বিশ্ব।
ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে অভিষেক
আইপিএলের শুরু থেকে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) অবিচ্ছেদ্য অংশ বিরাট কোহলি। তবে লখনউয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে দেখা গেল ডাগআউটে, অর্থাৎ একাদশের বাইরে বেঞ্চে। ফিটনেস নিয়ে ছোটখাটো সমস্যা এবং হালকা জ্বরের কারণে তাকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চায়নি ম্যানেজমেন্ট। ফলে পুরো ম্যাচে ফিল্ডিং না করে শুধুমাত্র ব্যাটিং করার জন্য 'ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার' হিসেবে মাঠে নামেন তিনি।
কোহলির অপছন্দের কারণ
মজার ব্যাপার হলো, এই 'ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার' নিয়মের শুরু থেকেই ঘোর বিরোধী বিরাট কোহলি। একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন:
* এই নিয়ম ক্রিকেটের ভারসাম্য নষ্ট করে।
* ব্যাট এবং বলের অসম লড়াই তৈরি হয়।
* অলরাউন্ডারদের সুযোগ কমিয়ে দেয়।
* এমনকি তিনি বলেছিলেন, ২০ ওভার ফিল্ডিং করে ম্যাচে প্রভাব রাখতে না পারলে তার ভালো লাগে না।
একবার রসিকতা করে তিনি এমনও বলেছিলেন যে, ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে খেলার চেয়ে খেলা ছেড়ে দেওয়া ভালো। কিন্তু দলের প্রয়োজন এবং নিজের শারীরিক অবস্থার কারণে সেই অপছন্দের নিয়মের কাছেই শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে হলো তাকে।
মাঠের বাইরে থাকলেও ব্যাটের ধার একটুও কমেনি কোহলির। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে নেমে ৩৪ বলে খেলেন ৪৯ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস। অল্পের জন্য হাফ-সেঞ্চুরি মিস করলেও তার স্ট্রাইক রেট (১৫৮.৩৩) প্রমাণ করেছে যে, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তিনি রাজার মতোই ব্যাট করেন।
চলতি ২০২৬ আইপিএল মৌসুমে প্রথম ৫ ম্যাচে ৫৭ গড়ে কোহলির সংগ্রহ এখন ২২৮ রান। ভক্তদের প্রত্যাশা, দ্রুত সুস্থ হয়ে তিনি আবার নিয়মিত একাদশে ফিরবেন এবং 'পুরো ২০ ওভার' মাঠ দাপিয়ে বেড়াবেন—যেমনটা তিনি সবসময় করতে ভালোবাসেন।