আলোচনা নাকি যুদ্ধ? সব পথেই প্রস্তুত ইরান

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনা এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে তেহরান সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তেহরানের 'সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ'-এর সিনিয়র ফেলো আব্বাস আসলানি এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরানের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দুই দেশের মধ্যকার আলোচনায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ইরানের পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা। তবে বুধবার (১৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির তেহরান সফরে আসার পর এই সংকটে নতুন মোড় বা 'ব্রেকথ্রু' আসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে পাকিস্তানি একটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আব্বাস আসলানি জানান, ইরান বিশ্বাস করে যদি সদিচ্ছা থাকে তবে পরমাণু ইস্যুতে একটি সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, তবে তেহরান স্বচ্ছতা বজায় রাখতে উন্মুক্ত। তাই এই আলোচনায় অগ্রগতি হওয়াটা আশ্চর্যজনক কিছু নয়।

আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা থাকলেও তেহরানের মনে গভীর সংশয় রয়ে গেছে। সম্প্রতি ইরানি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপের ফলে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব একটা আশাবাদী হতে পারছে না তেহরান। 

আসলানির মতে, দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র আস্থার সংকট বিদ্যমান। তিনি উল্লেখ করেন যে, একদিকে যেমন আলোচনার টেবিলে অগ্রগতির চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপও অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ইরান দ্বিমুখী অবস্থান গ্রহণ করেছে। আসলানি আল-জাজিরাকে বলেন, বর্তমানে ইরান সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত। আলোচনার মাধ্যমে অগ্রগতি হোক কিংবা পুনরায় সামরিক সংঘাত শুরু হোক সব ক্ষেত্রেই তেহরান নিজস্ব প্রস্তুতি বজায় রাখছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের এই মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যকার পরোক্ষ বার্তা বিনিময়ই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা কোন দিকে যাবে। তবে আপাতত 'অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ' নীতিতেই হাঁটছে দুই দেশ।