সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম রামগঞ্জের উন্নয়নের প্রশ্নে সম্পূর্ণ ব্যর্থ—এটা এখন আর আড়াল করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) মাহফুজ আলমের এক ফেসবুক পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের ফেসবুক পেজে এই মন্তব্য করেন শাহাদাত হোসেন সেলিম।
তিনি লেখেন, মাহফুজ আলম—এই নামটি আমি আগে কখনো শুনিনি। তবে তার বাবা বাচ্চু মোল্লা, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন। আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে তিনি গ্রেপ্তার হলে আমি নিজ উদ্যোগে থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে তাকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করি।
তিনি জানান, ড. ইউনুস ক্ষমতায় আসার পর একদিন বাচ্চু মোল্লার বাসায় সাংগঠনিক একটি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। সেদিন রাতেই টেলিভিশনে জানতে পারি, মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তখন আনন্দের সাথে তার বাবাকে বলেছিলাম, ১০ কেজি মাংস ও ১০ কেজি আলু বেশি রান্না করতে।
মাহফুজ অত্যন্ত দৃষ্টিকটু আচরণ করেন উল্লেখ করে শাহাদাত হোসেন সেলিম লেখেন, বিশেষ সহকারী হওয়ার দুই-তিন দিনের মধ্যেই আমাদের সাথে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতে প্রধান উপদেষ্টার এক বৈঠকে মাহফুজ উপস্থিত না থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করছিল। আমি তার সঙ্গে একটি ছবি তুলতে চাইলে তিনি অনীহা প্রকাশ করেন এবং অত্যন্ত দৃষ্টিকটু আচরণ করেন—যা আমাকে বিস্মিত করেছে, এবং সহকর্মীদের নিকট আমি অপমানিত হয়েছি।
মাহফুজের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রামগঞ্জের এই সংসদ সদস্য লেখেন, উপদেষ্টা থাকাকালীন রামগঞ্জের দৃশ্যমান উন্নয়নে তার কোনো অবদান চোখে পড়েনি। অথচ সে সময় তার হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা ছিল। রামগঞ্জের উন্নয়নের প্রশ্নে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ—এটা এখন আর আড়াল করার সুযোগ নেই। কথার ফুলঝুরি বা অজুহাত দিয়ে বাস্তবতা ঢেকে রাখা যায় না। রামগঞ্জের প্রতি তার কোনো বাস্তব আগ্রহ কখনোই দেখা যায়নি।
শাহাদাত হোসেন সেলিমের এই অভিযোগের ব্যাপারে মাহফুজ আলমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে এক ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ লেখেন, আজকে হাসনাতের সংসদে ‘আকুতি’ দেখে মনে পড়ল যে, রামগঞ্জ-লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের জন্য ৪/৫ জন উপদেষ্টার কাছে গিয়েও কোনো হেল্প পাইনি। তাদের সাথে কয়েকবার দেখা করেছি। ডিও লেটার দিয়েছি। সেসব লেখার সময় এখনো আসেনি। এতটুকু বলতে পারি যে, একটি রাজনৈতিক দলের চাপে/সিদ্ধান্তে উনারা আমার এলাকায়/আমাকে কোনো সহযোগিতা করেননি।
মাহফুজ আলম তার ফেসবুকে লেখেন, হাসনাত বলসেন এলাকায় মুখ দেখাতে পারবেন না। আর, আমার মুখটা ঢেকে দিয়েছিলেন আমার সহকর্মীগণ! খোদা তাদের মঙ্গল করুন। অন্তরীণ সরকার কিভাবে চলত, এটা নিয়ে কত মিথ্যা আর গুঞ্জন হলো। গুঞ্জন আর নানা হিসাবের বাইরে তো অনেক সত্য আছে!!