ইউক্রেন এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভাণ্ডারে অস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং অস্ত্রের সরবরাহ সচল রাখতে প্রচলিত প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের বাইরে বিকল্প পথ খুঁজছে পেন্টাগন। এরই অংশ হিসেবে ফোর্ড ও জেনারেল মোটরস-এর মতো বৃহৎ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্ত্র উৎপাদনের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক ভাণ্ডারে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত পূরণ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মূলত প্রচলিত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাওয়ায় মার্কিন কর্মকর্তারা এখন অটোমোবাইল শিল্পের মতো বিশাল উৎপাদন সক্ষমতা সম্পন্ন খাতের দিকে নজর দিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকেই এই আলোচনা শুরু হয়েছিল, যা বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পেন্টাগন এই গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে জানতে চেয়েছে, তারা বর্তমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় কত দ্রুত তাদের সাধারণ উৎপাদন ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সামরিক সরঞ্জাম বা অস্ত্র তৈরিতে মনোনিবেশ করতে পারবে।
ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও মার্কিন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিয়মিত উৎপাদন বন্ধ করে দিয়ে যুদ্ধ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ট্রাক, উড়োজাহাজ এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে পেন্টাগন আবারও সেই ঐতিহাসিক মডেলের পুনরাবৃত্তি করতে চাইছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
পেন্টাগনের এই আলোচনার খবরটি এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দুটি ফ্রন্টে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের সামরিক সহায়তার চাপ সামলাতে হচ্ছে। ফোর্ড ও জেনারেল মোটরসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়, তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতের উৎপাদন সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে গাড়ি তৈরির কারখানাগুলোকে আধুনিক অস্ত্র তৈরির কারখানায় রূপান্তর করা প্রযুক্তিগতভাবে কতটা সময়সাপেক্ষ বা চ্যালেঞ্জিং হবে, তা নিয়ে বর্তমানে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। পেন্টাগন বা সংশ্লিষ্ট গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল