উচ্চ আদালতের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দুই শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয়রা সালিশ বৈঠক বসিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করেছিল।
তবে ভুক্তভোগী পরিবার ৯৯৯ এ কল করায় ভেস্তে যায় সেই অপচেষ্টা। দুই শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে হারুন মিয়া (৫২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দিনগত রাতে পুলিশের হাতে আটক হন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সিদ্ধিরগঞ্জের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মিজমিজি চৌধুরীপাড়া এলাকায় হাজী মমিন মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া হারুন মিয়া শিশু দুই বোনকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। প্রথমে তাদের খাবার খাওয়ানো হয় এবং পরে মোবাইলে গেম খেলার প্রলোভন দেখিয়ে, কক্ষের বাতি নিভিয়ে তাদের ওপর যৌন নিপীড়ন করেন। ঘটনার পরদিন বুধবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাড়ির মালিক হাজী মমিন মিয়া স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করেন।
বৈঠকে মাতবররা অভিযুক্ত হারুন মিয়াকে জুতা দিয়ে প্রহার, কান ধরে উঠবস করানোসহ নগদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে তার বাসায় থাকা একটি ফ্রিজ ১০ হাজার টাকা বিক্রি করে বকেয়া ভাড়া সমন্বয় করা হয়। পরে ভুক্তভোগীর পরিবার জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ এসে তাকে আটক করেন। এ ঘটনায় নিহতদের পিতা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত হারুন মিয়া চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার তারাপাল্লা এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে। ভুক্তভোগী দুই শিশুর বয়স যথাক্রমে ৯ ও ৮ বছর, তারা দুজন সম্পর্কে আপন বোন। তারা অভিযুক্তের সঙ্গে একই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান জানান, ‘যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুদের পিতা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’