সারা দিন অটোচালক, রঙমিস্ত্রি, রডমিস্ত্রি ও বাসচালক হলেও সন্ধ্যার পর তারা ভয়ঙ্কর ডাকাত দলের সদস্য। কেরানীগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ কেন্দ্রিক গড়ে ওঠা এই ডাকাত দল সক্রিয় রয়েছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জে চীনা নাগরিক পরিচালিত ফ্যাক্টরিতে ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত দল পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এ ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত বুধবার রাতে কেরানীগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। গ্রেপ্তাররা হলেন মাসুদ রানা, নাসির পিয়াদা, হৃদয় মীর, রোমান শেখ, মো. মামুন। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত তিনটি বিদেশি দামি ব্র্যান্ডের ঘড়ি, দুটি মোবাইল ও ১৫ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় ১৫-২০ সদস্যের একটি ডাকাতদল কেরানীগঞ্জে চায়নিজ ‘ইয়াংজিয়াং ফ্যাক্টরির’ মেইন গেটে আসে। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের শিফটিং টাইম। এ সময় ফ্যাক্টরির প্রধান দরজা খোলা থাকে। ঠিক ৭টা ১০ মিনিটে ডাকাতদল দরজায় আসে। তারা দরজার লক খুলে ভেতরে প্রবেশ করে প্রথমে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে বাঁধে। এরপর তারা অফিসিয়াল দোতলা ভবনে যায়। সেখানে একজন চীনা নাগরিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মালামাল ও টাকা-পয়সা লুট করতে থাকে।
অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ডাকাত দলটি কয়েকভাগে বিভাক্ত হয়ে এই কাজ করেন। তাদের একটা দল প্রধান দরজার বাইরে অবস্থান নেয়। আরেক দল থাকে নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। তাদের আরেকটি দল ফ্যাক্টারির নিচ তলায় চীনা নাগরিককে জিম্মি করে। চার নম্বর দলটি লুটপাট করতে থাকে। এ সময় তারা ভবনের ভেতওে সব সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। এতে বাঁধা দেওয়া এক চীনা নাগরিক বাধা দিলে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই র্যাবের একটি দল ঘটনাস্থলের তথ্য ও সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে। ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় ভুলে তাদের একটি ফোন ফেলে রেখে যায়। সেই ফোনের সূত্র ধরেই আভিযান চালানো হয়। এই ডাকাতির ঘটনায় যারা অংশগ্রহণ করেছে তাদের অনেককেই শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার পাঁচজন কেরানীগঞ্জের ও মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা। এরা প্রত্যেকেই কোনও না কোনও পেশার সঙ্গে জড়িত। তারা এসব সাধারণ কার্যক্রমের পাশাপাশি এই ধরনের (ডাকাতি) কার্যক্রম করে থাকে।
এদিকে বুধবার পৃথক আরেকটি অভিযানে কেরানীগঞ্জ থেকে অস্ত্রধারী দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। তারা হলেন মো. জিতু ও হুমায়ুন হোসেন রনি। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক ও ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার আসামি জিতুর বিরুদ্ধে ঢাকার কদমতলী থানায় ১২টি এবং হুমায়ূন হোসেন রনির বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় ৯টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে ডিএমপির কদমতলী থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
ডাকাতির ঘটনায় কেরানীগঞ্জ থানায় এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় কদমতলী থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।