ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু হওয়া ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থায় নিবন্ধন করেছেন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। গত ৫ এপ্রিল থেকে কার্ডের মাধ্যমে তেল সরবরাহ শুরু হলেও বাস্তবে ভোগান্তি পুরোপুরি কমেনি। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, আর সেই সুযোগে বাড়ছে নানা অনিয়ম।
কার্ড চালুর পর দেখা যাচ্ছে অভিনব কৌশল। কেউ অন্যের ফুয়েল কার্ড ব্যবহার করছেন, কেউ আবার ফটোকপি নিয়ে এসে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সালন্দর গ্রামের নূর ইসলাম তার বড় ভাইয়ের কার্ড নিয়ে পাম্পে এলেও তার নিজের গাড়ির কোনও রেজিস্ট্রেশন না থাকায় বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দেয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে পাম্প কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে কার্ড ছাড়াই তেল নেয়ার ঘটনাও ঘটছে। এ ছাড়া এক গাড়ির ফুয়েল কার্ড দিয়ে অন্য গাড়িতে তেল নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বেশ।
এদিকে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আগে থেকে গাড়ি রেখে যাওয়া প্রবণতা। অনেকেই ২৪ ঘণ্টা আগে গাড়ি এনে পাম্পের সামনে রেখে দিচ্ছেন সিরিয়াল নিশ্চিত করতে। ফলে পাম্প এলাকায় দীর্ঘ সারি স্থায়ী হয়ে থাকছে দিনরাত। এসব গাড়ি পাহারা দিতে গড়ে উঠেছে এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক নাইটগার্ড ব্যবস্থা, যেখানে প্রতি গাড়ির জন্য ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।
জামাল উদ্দিন নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, আজকে গাড়ি রেখে গেলাম, কাল সকাল ৯টা থেকে তেল দেবে। শখের গাড়ি রেখে বাসায় নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারি না। তাই নাইটগার্ডকে ৫০ টাকা দিয়ে পাহারা দিতে বলেছি।
নাইটগার্ড হরিহর বলেন, রাতে অনেকেই গাড়ি রেখে যায় কিন্তু থাকতে চায় না। আমি পাহারা দেই, গাড়ি প্রতি ৫০-১০০ টাকা যা পাই তাই নেই। প্রতিটি পাম্পেই এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাইরুল ইসলাম বলেন, ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা মূলত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য চালু করা হয়েছে। তবে কিছু অনিয়মের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অন্যের কার্ড ব্যবহার, ফটোকপি বা কার্ড ছাড়া তেল নেওয়ার চেষ্টা, এসবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পাম্পে গাড়ি রেখে অনিয়ন্ত্রিতভাবে লাইন তৈরির বিষয়টিও নজরদারিতে আনা হচ্ছে। খুব দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি দ্রুত কঠোর নজরদারি বাড়ানো না হলে ফুয়েল কার্ড চালুর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।