ঠাকুরগাঁও শহরের সরকারপাড়া সমির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর ও পশ্চিম পাশে দীর্ঘদিন ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিশালাকৃতির মেহগনি ও কাঁঠাল গাছসহ তিনটি মরা গাছ। এতে ভয়াবহ ঝুঁকিতে রয়েছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। যেকোনও সময় গাছগুলো ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাছগুলো কাটতে প্রায় দুই বছর ধরে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেও কোনও সুরাহা হয়নি। তবে উপজেলা প্রশাসন গাছ কাটতে চিঠি দেওয়ার পরামর্শ দেয়।
বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুতাসিম ফুয়াদ, খালিদ বিন বাইজিদ ও সিয়াম ইসলাম জানায়, বিদ্যালয়ের মাঠে প্রায় প্রতিনিই আমরা খেলাধুলা করি এবং গাছের নিচ যেতে হয়। একটু বাতাস হলেই গাছগুলো নড়াচড়া করে। আমাদের সব সময় আতঙ্কিত থাকতে হয়। কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক আনিসুর রহমান জানান, মরা গাছগুলোর সঙ্গেই দুটি বিদ্যুতের খুঁটি আছে। গাছগুলো যেকোনও সময় ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গিয়ে আগুন লেগে যেতে পারে। তাই অবিলম্বে গাছ গুলো অপসারণ করার দাবিও জানান তিনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার কারণে আজ শিক্ষার্থীরা হুমকির মুখে পড়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদ্যালয়ের সামনে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ দুটি মরা গাছ কেটে ফেলার জন্য ২৪ সালের ৭ মে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর আবেদন করি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গাছ দুটি কেটে ফেলার উদ্যোগ না নিলে ওই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর ঝুঁকিপূর্ণ তিনটি গাছ কর্তনের জন্য পুনরায় আবেদন করেন। কিন্তু এরপরও গাছগুলো কেটে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো কেটে ফেলার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে গাছগুলো কাটছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোর্শদা খানম বলেন, বিদ্যালয়ে তিনটি গাছ এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। গাছগুলো কেটে ফেলতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিলেও এখন পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোফাজ্জল হোসেন বলেন, এ বিষয়টি আমি অবগতি নই এবং এটা আমার কাজ নয়। উপজেলা কমিটি এ বিষয়টি দেখবেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাইরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিতে বলেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।