১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে বিএনপি সরকার। আজ শুক্রবার সরকারের দুই মাস পূর্ণ হচ্ছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম ধাক্কাটা আসে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে। যার দায় সরকারের না হলেও জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে বেশ সমস্যাই তৈরি হয়েছে। এরপর ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং সাম্প্রতিক ‘মব সন্ত্রাস’-এর মতো ঘটনাগুলোও সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলেছে। পাশাপাশি প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংসদে এবং সংসদের বাইরে সরকারকে চাপে ফেলতে চেষ্টা করছে। রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলার হুমকি দিচ্ছে। তবে সব চ্যালেঞ্জ ও চাপ মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও রয়েছে সরকারের ভেতরে।
এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং বিএনপি নেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের সংকট সরকারের সৃষ্ট নয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। যে অধ্যাদেশগুলো সংসদে ওঠেনি তা পরে সংসদে তোলা হবে। চাইলে বিরোধী দল থেকেও সংসদে তুলতে পারে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হবে। আর মব সন্ত্রাস নিয়ে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার। কাউকেই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে মব সন্ত্রাসের ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির মুখোমুখি করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
জ্বালানি, জুলাই সনদ ও মব জাস্টিস নিয়ে সরকার চাপে আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভোটের কালি শুকানোর আগেই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খননসহ বিভিন্ন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল নিয়ে বিশে^ তোলপাড় হলেও আমরা তেলের দাম বাড়াইনি। তেল নিতে পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন থাকলেও মানুষ তেল পাচ্ছে। মব নিয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। সরকার মব প্রশ্রয় দেবে না। প্রধানমন্ত্রী মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি দেখছে।’
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ৬ মার্চ থেকে ফিলিং স্টেশন থেকে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক যানবাহনে জ্বালানি তেল সংগ্রহের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। বলা হয়, এখন থেকে একটি মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ ১০ লিটার পেট্রোল বা অকটেন কিনতে পারবে। সরকার তেলের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়ার পর থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পেট্রোলপাম্পগুলোতে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তেলের মজুদ নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে ডিলার ও সাধারণ ভোক্তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুদ করার চেষ্টা করেন। অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে সরকার অভিযান পরিচালনা করছে। তেল সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য রাখছেন। কোন কোন সংসদ সদস্য সংসদে দাঁড়িয়ে তেল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সংসদে বিবৃতি দিয়েছেন। বিরোধী দলের অভিযোগের জবাবে সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের মধ্যেও দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। মজুদ থাকা জ্বালানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ডিজেল। এর পরিমাণ এক লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ টন। এ ছাড়া অকটেন ১০ হাজার ৫০০ এবং পেট্রোল ১৬ হাজার টন মজুদ রয়েছে। এপ্রিলে আরও জ্বালানি আসার তথ্যও উপস্থাপন করেন তিনি। সেই সঙ্গে জানান, অবৈধ মজুদ বন্ধে, ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আর উদ্ধার করা হয়েছে ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৬ লিটার জ্বালানি।
এদিকে জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যে দামবৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় আসে। তেলের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে গত মাসে দামবৃদ্ধি করেনি সরকার। তবে মে মাসের জ্বালানির দাম নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদে আলোচনা করে, প্রয়োজন মনে করলেই কেবল দামবৃদ্ধি পাবে।’
সম্প্রতি জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের কষ্ট লাঘবে সরকার কাজ করছে। বহির্বিশ্বের অস্থিরতার মধ্যেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করেনি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুৎ, গণপরিবহন ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পায়। চতুর্দিক থেকে চাপ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা করেনি সরকার। জনগণের দুর্ভোগ কোনো কারণে যাতে না বাড়ে, সেটি নিশ্চিত করতে প্রতিদিন সরকার ১৬৭ কোটি টাকা জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দিচ্ছে।’
জ্বালানি তেল সংকটের বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অনেক দেশেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। আমরা জনগণের কথা চিন্তা করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াইনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিপক্ষে। আমরা ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি তেলের দাম স্বাভাবিক রাখছি। তবে জ্বালানি তেল পেতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করছি। আশা করছি সময়ের ব্যবধানে সব ঠিক হয়ে যাবে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকে দেশে শুরু হয় মব সন্ত্রাস। এ নিয়ে সংসদ অধিবেশনে গত ৩০ মার্চ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিগত সরকারের সময়ের গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রসঙ্গ তুলে বর্তমান সময়ের মব সন্ত্রাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে মবের শিকার হয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন বলে পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে। তিনি নিজেও গত ২১ ফেব্রুয়ারি এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন এবং এ প্রবণতা বন্ধে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশে চলমান তথাকথিত ‘মব কালচার’ বা বিশৃঙ্খল গণপিটুনির সংস্কৃতি আর বরদাশত করা হবে না। দাবি আদায়ের নামে সড়ক অবরোধ বা মব তৈরি করে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরই স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছি যে, বাংলাদেশে কোনো ধরনের মব কালচার থাকবে না। দাবি আদায়ের জন্য মহাসড়ক বা সড়ক অবরোধ করার যে প্রবণতা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেখা গিয়েছিল, তা আর কখনো অনুমোদন করা হবে না।
সরকারের এমন অবস্থানের পরও গত শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একটি দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি। এতে দরবারে প্রধান ও পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে সমালোচনা। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট। গত রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘মব-সহিংসতা স্থানীয় ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়া ব্যতীত সম্ভব নয়। গত বছর রাজবাড়ীতে মাজার ভাঙচুর ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাতেও রাজনৈতিক শক্তির ছত্রচ্ছায়া দেখা গেছে। সরকারের তরফ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বারবার ‘মব কালচার’ শেষ করার ঘোষণা দিলেও ‘প্রকৃত মব’ থামাতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার।
দলটির অভিযোগ, একদিকে সরকার ‘মব কালচার’ শেষ করার ঘোষণা দিয়ে সরকার-সমর্থিত ‘মব’কে প্রশ্রয় দিচ্ছে। অন্যদিকে ‘মব কালচার’ পরিভাষাটিকে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।
একই দিন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে বগুড়া-৬ (সদর) ও শেরপুর-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এলাকায় যাতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে, সেভাবে আপনারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করবেন। কেউ যদি এমন কিছু করে, যার জন্য এলাকার শান্তি নষ্ট হয়, সে ক্ষেত্রে আপনাদের দায়িত্ব হলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো। আইন কখনো নিজের হাত তুলে নেবেন না। যেকোনো মূল্যে এলাকার উন্নয়ন করতে হবে, যেকোনো মূল্যে এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে।
জুলাই সনদ : জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগ সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন থেকে দূরে সরে গেছে। অন্যদিকে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ‘আমরা জুলাই সনদকে মানি, তার প্রত্যেকটা দফাকেই সম্মান করি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।’
অন্তর্বর্তী সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ বসার পর এগুলো আইনে পরিণত করার কাজ শুরু করে। অধিবেশনের প্রথম দিন ১২ মার্চ আইনমন্ত্রী ১৩৩টি অধ্যাদেশই উপস্থাপন করেন, যা পরে পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়।
সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে, গত ৫ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ৯১টি বিল পাস করেছে। এর মধ্যে চারটি বিলের মাধ্যমে সাতটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। ৮৭টি বিলের মাধ্যমে ১১৩টি অধ্যাদেশ অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের কর্মকা- নিষিদ্ধ করা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি দেওয়ার মতো অধ্যাদেশও রয়েছে। শুধু শেষ দিনেই ২৪টি বিল পাস হয়েছে। এর আগে ৫ এপ্রিল দুটি, ৬ এপ্রিল সাতটি, ৭ এপ্রিল ১৪টি, ৮ এপ্রিল ১৩টি ও ৯ এপ্রিল ৩১টি বিল পাস হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হয়নি। রহিত করা হয়েছে ৭টি অধ্যাদেশ। এর মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং গুম প্রতিরোধ, গণভোটসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ রয়েছে। এসব অধ্যাদেশ পাস না করায় সংসদে বিরোধী দল, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ (টিআইবি) সমালোচনা করে বক্তব্য ও বিবৃতি দিয়েছে।
গত রবিবার সচিবালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উত্থাপনপরবর্তী বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘৯৭টি অধ্যাদেশ হুবহু আগের মতোই পাস করা হয়েছে। ১৩টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে পাস করা হয়েছে এবং ৭টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ-সংক্রান্ত বিল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাকি ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি।’ এর আগে সংসদে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বলেছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি।’
এদিকে গত সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য অনেকেই আন্দোলন শুরু করতে বলছেন। আন্দোলন শুরু করতে হবে না, আন্দোলন ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এই আন্দোলনে আমরা শুধু সঙ্গে থাকব না; বরং সামনের সারিতে থাকব।’
তবে বিরোধী দলের আপত্তির বিষয়ে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি মনেপ্রাণে জুলাইকে ধারণ করে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। এটা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সেটি জুলাই সনদের মধ্যেই বলে দেওয়া আছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং গুম প্রতিরোধসহ যেগুলো চলতি অধিবেশনে উঠছে না, সেগুলো পর্যালোচনা করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংসদের আগামী অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে।’