চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর মেজাজ হারিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জুড বেলিংহ্যাম। অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর বেলিংহ্যাম ও তার সতীর্থরা রেফারি স্লাভকো ভিঞ্চিককে ঘিরে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেবল বেলিংহ্যাম নন, পুরো রিয়াল মাদ্রিদ শিবির এখন রেফারিংয়ের সিদ্ধান্তে ফুসছে।
ম্যাচ শেষে রিয়ালের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় আন্তোনিও রুডিগার সরাসরি সমালোচনা না করলেও তার কথায় ছিল চাপা উত্তেজনা। তিনি বলেন, রেফারিকে নিয়ে কিছু না বলাই ভালো, তবে আপনারা কি লাল কার্ডটা দেখেছিলেন? অন্যদিকে, চোটের কারণে স্কোয়াডে না থাকলেও মাঠের বাইরে থেকে মেজাজ হারিয়েছেন অধিনায়ক দানি কারভাহাল। এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে লাল কার্ড দেখানোর পর তিনি সাইডলাইন থেকে রেফারির দিকে আঙুল তুলে চিৎকার করে বলছিলেন, সব তোমার দোষ।
রিয়ালের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে আরদা গুলেরের লাল কার্ড। ম্যাচের প্রথম দুটি গোল করা এই তুর্কি তরুণ খেলা শেষে রেফারির সাথে তর্কে জড়িয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। ফলে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ম্যাচে তিনি মাঠে নামতে পারবেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুলের লিখেছেন, এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। আমরা এই হারের জন্য দুঃখিত। তবে রিয়াল মাদ্রিদ আবার শক্তিশালী হয়ে ফিরবে।
কোচ আলভারো আরবেলোয়া এই লাল কার্ডের সিদ্ধান্তকে স্রেফ অবিশ্বাস্য বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, রেফারি জানতেনই না যে কামাভিঙ্গা আগেই একটি হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন। বায়ার্ন খেলোয়াড়দের প্ররোচনাতেই রেফারি দ্বিতীয়বার কার্ড বের করেছেন। আরবেলোয়া বলেন, এমন ছোট একটি কারণে লাল কার্ড দিয়ে একটি চমৎকার ম্যাচের ভারসাম্য নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এটি ছিল রেফারির বড় ভুল।
স্প্যানিশ সাংবাদিক হুয়ান কাস্ত্রোর মতে, রিয়াল মাদ্রিদ শিবিরে এখন কেবলই অবিশ্বাস আর হতাশা। তিনি বলেন, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো বড় আসরে যখন দুই দল সমানে সমান লড়ছে, তখন কামাভিঙ্গাকে এমন লাল কার্ড দেখানো কোনোভাবেই মানা যায় না। এই একটি সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য বায়ার্নের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
তবে বায়ার্ন মিউনিখ শিবির রেফারির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে। গোলদাতা লুইস দিয়াজ বলেন, আমরা দ্রুত ফ্রি-কিক নিতে চেয়েছিলাম কিন্তু কামাভিঙ্গা বল ছাড়ছিল না, তাই রেফারি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। এই সুযোগটিই আমরা কাজে লাগিয়েছি। হ্যারি কেনও মনে করেন, ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া রিয়ালকে শেষ মুহূর্তে চাপে ফেলা বায়ার্নের জন্য সহজ হয়ে গিয়েছিল।
লুইস দিয়াজ ও মাইকেল অলিসের শেষ মুহূর্তের গোলে ৪-৩ ব্যবধানের জয় নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বায়ার্ন। ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা জানিয়েছে, তারা রেফারির রিপোর্ট পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সেমিফাইনালে বায়ার্নের প্রতিপক্ষ এখন পিএসজি, তবে রিয়ালের বিদায়ে মাঠের ফুটবলের চেয়ে রেফারির সিদ্ধান্তই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।