চলতি বছরেই বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে পারে। আর সেই কাউন্সিল শেষেই দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান। সম্প্রতি এক বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমি খুবই ক্লান্ত। আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে রাজনীতিতে। কাউন্সিলের পর অবসর নিতে চাই রাজনীতি থেকে। তিনি আরও বলেন, আসন্ন কাউন্সিলে মহাসচিব পদে নতুন মুখ আসবে।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার কোনো ইচ্ছা আছে কি না-জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রত্যাশা কখনই ছিল না আমার। আমি এ পর্যন্ত যেখানে এসেছি, সেটা আমার ভাগ্য। আমার কাজটা ছিল, কিন্তু আমার আকাঙ্ক্ষা এখানে নিয়ে এসেছে বলে মনে করি না।
প্রায় ১০ বছর আগে হয় বিএনপির শেষ কাউন্সিল। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক ব্যস্ততায় নতুন কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি নির্বাচন শেষে বিষয়টি গুরুত্ব পায়। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় একাধিক জনসভায় নিজের শেষ নির্বাচন বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার আগে ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে দলের পঞ্চম কাউন্সিলে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই নেতা করেন সরকারি চাকরিও। ১৯৮৬ সালে শিক্ষা ক্যাডারের চাকরি থেকে পদত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি হন।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রী ও পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ওই দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।