তুরস্কে এরদোগান-শাহবাজ শরিফের বৈঠক, যা জানা গেলো

আন্টালিয়ায় আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে যোগ দিতে তুরস্কে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সেখানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন তিনি। শুক্রবার (১৭এপ্রিল) সকালে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফোরামে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শাহবাজকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর সাথে একান্ত বৈঠকের অপেক্ষায় রয়েছেন। বৈঠকে শাহবাজ শরিফ তুরস্কের আতিথেয়তার প্রশংসা করে দেশটিকে তার ‘দ্বিতীয় নিবাস’ হিসেবে অভিহিত করেন। এই সফরে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সৈয়দ তারিক ফাতেমিও তার সাথে রয়েছেন।

ফোরামের সাইডলাইনে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সিরিজ বৈঠক করেছেন। তিনি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলমেদিন কোনাকোভিচের সাথে সাক্ষাত করে দুই দেশের ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনর্নিশ্চিত করেন। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি 'ম্যাপিং টুমরো, ম্যানেজিং আনসার্টেনিটিজ' শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন। তুরস্ক সফরের আগে তিনি সৌদি আরব ও কাতার সফর করেছেন।

এছাড়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে এক বৈঠকে ইসহাক দার দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালীকরণ এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে পাকিস্তানের গঠনমূলক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। উত্তর সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাহসিন এরতুগ্রুলোগলু এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কৌশলগত গোয়েন্দা বিষয়ক উপ-মন্ত্রী জিয়ং ইয়োন্ডুর সাথেও তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে, যেখানে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন। সৌদি আরবে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে বৈঠকে তিনি পাকিস্তানের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় দেশটির অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এরপর কাতারের আমিরের সাথে বৈঠকে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপের ওপর জোর দেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া ভয়াবহ সংঘাতের জেরে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান গত ১১ এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য একটি সর্বজনীন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদে আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পরও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং হরমুজ প্রণালি সচল করার লক্ষ্যে শাহবাজ শরিফের এই তুর্কি সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।