সংরক্ষিত নারী আসনের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া করছে বিএনপি। মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত আছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দেশের পাঁচটি সাংগঠনিক বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়।

শুক্রবার বিকেল পৌনে ৪টায় রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ডের মুখোমুখি হন আগ্রহী প্রার্থীরা। ৯ সদস্যের বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এই সাক্ষাৎকার কার্যক্রম শুরু হয়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম দিনে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও ফরিদপুর সাংগঠনিক বিভাগের চার শতাধিক প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। শনিবার বিকেল ৩টা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ বিভাগের পাঁচ শতাধিক প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।

এর আগে গত বুধবার জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২১ এপ্রিল। বাছাই অনুষ্ঠিত হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। এ সংক্রান্ত আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল, যা নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল ও ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

ইসি জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আসন বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পাবেন একটি আসন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত আছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, সালাউদ্দিন আহমেদসহ আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা বোর্ডে রয়েছেন। উপস্থিত আছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও।

নারী আসনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা প্রসঙ্গে  রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, গত ১৫-১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে নারী নেত্রীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। অনেকেই মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন। এসব অবদান অবশ্যই মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি সংসদে কার্যকরভাবে বক্তব্য উপস্থাপন ও আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও শিক্ষাগত যোগ্যতাও বিবেচনায় নেওয়া হবে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জমা দেওয়া জীবনবৃত্তান্ত যাচাই করবে পার্লামেন্টারি বোর্ড। প্রাথমিক বাছাই শেষে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। এ সময় তাদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনাও জানতে চাওয়া হচ্ছে।

যদিও বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬টি আসন পাবে, তবুও শতাধিক নারী নেত্রীকে চূড়ান্ত বিবেচনায় রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে যেসব জেলায় দল তুলনামূলক দুর্বল, সেসব এলাকায় প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।