সাজা কমল অং সান সু চির

চলতি মাসে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মিয়ানমারে হাজারো বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা বা সাজা কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং। এ তালিকায় আছেন ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দেশটির গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি ও তার সরকারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট। গতকাল শুক্রবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, জান্তাপ্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইংয়ের এটি অন্যতম প্রথম সরকারি পদক্ষেপ। জান্তা সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, অভ্যুত্থানের পর থেকে বন্দি থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকে সাধারণ ক্ষমা করা হয়েছে; নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে তার অবশিষ্ট সাজা মওকুফ ও ক্ষমা মঞ্জুর করা হয়েছে। অন্যদিকে কারাবন্দি নেত্রী অং সান সু চির সাজা ৪ বছর কমানো হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। ৮০ বছর বয়সী সু চি বর্তমানে ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। এতে তার সাজা কমে দাঁড়াল সাড়ে ২২ বছরে। তবে নোবেলজয়ী এই নেত্রীকে কারাগারের পরিবর্তে গৃহবন্দিত্বে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভি জানায়, প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং ৪ হাজার ৩৩৫ জন বন্দির জন্য সাধারণ ক্ষমা অনুমোদন করেছেন। মিন অং হ্লাইংয়ের পক্ষে প্রকাশিত এক বার্তায় বলা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করা হবে, তবে সে বার্তায় নির্দিষ্ট কোনো বন্দির নাম উল্লেখ করা হয়নি। মুক্তি পাওয়া বন্দিদের মধ্যে ১৭৯ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এ ছাড়া এই সাধারণ ক্ষমার আওতায় সব মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন করা, যাবজ্জীবন সাজা ৪০ বছরে নামানো এবং অন্য বন্দিদের সাজা কমানোর সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত ছয় মাসে তৃতীয়বারের মতো বন্দিদের সাজা কমালেন মিন অং হ্লাইং। মিয়ানমারে প্রতি বছর সাধারণত জানুয়ারিতে স্বাধীনতা দিবস এবং এপ্রিলে নববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। রয়টার্সের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের সেনা-সমর্থিত সরকারের এক মুখপাত্রের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছিল; তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি সাড়া দেননি।

২০২১ সালে সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করেন মিন অং হ্লাইং। এতে দেশটি রাজনৈতিক অস্থিরতায় পড়ে; জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তীব্র লড়াই হয় সেনাবাহিনীর। এর মধ্যেই মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন মিন অং হ্লাইং। গত ৩ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এ নির্বাচন অবাধ বা সুষ্ঠু হয়নি। সু চি দুর্নীতি, নির্বাচনে কারচুপি, উসকানি দেওয়া, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনসহ বেশ কিছু অপরাধে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন সু চি। শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চির মিত্রদের দাবি, সব অভিযোগই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

গত বছর সু চির শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তার ছেলে কিম অ্যারিস। সু চির শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং সে সম্পর্কে কোনো তথ্য না পাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। এমনকি সু চির বেঁচে থাকা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তার ছেলে। এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানায় জাতিসংঘও।