বিএনপির মহাসচিব পদে আলোচনায় যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। এরপর দলীয় ফোরামে বিএনপির কাউন্সিলের বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও বিয়য়টি আলোচনায় উঠে আসে। আগামী ঈদুল আজহার পর কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি। কাউন্সিল শেষেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান। সম্প্রতি এক বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, আমি খুবই ক্লান্ত। আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে রাজনীতিতে। কাউন্সিলের পর অবসর নিতে চাই রাজনীতি থেকে। আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে। অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। আসন্ন কাউন্সিলে মহাসচিব পদে নতুন মুখ আসবে বলেও জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ কাউন্সিলের পর এবার সপ্তম কাউন্সিল হতে যাচ্ছে। এবারের আয়োজন আগের তুলনায় বিস্তৃত ও অংশগ্রহণমূলক করার পরিকল্পনা করছে দলটি; যাতে কেন্দ্রের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়েও সম্পৃক্ততা বাড়ানো যায়। এবার নিজেদের অনুকূল পরিবেশের কারণে এবার থাকবে ভিন্নমাত্রা। দীর্ঘদিন পরে দলটিতে আসবে নতুন নেতৃত্ব।

জানা যায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির ১৯ জন সদস্য থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ১৪ জন সদস্য নিয়ে কমিটি পরিচালিত হচ্ছে স্থায়ী কমিটি। তাদের মধ্যেও কয়েকজন বয়সজনিত কারণে অসুস্থ বলে জানা গেছে। তবে বিএনপির চেয়ারম্যান চাইলে তার ক্ষমতাবলে স্থায়ী কমিটির শূন্য পদসমূহ কাউন্সিলের আগেই পূরণ করতে পারেন।

এদিকে কাউন্সিল শেষেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান। আসন্ন কাউন্সিলে মহাসচিব পদে নতুন মুখ আসবে বলেও জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজনীতি থেকে মির্জা ফখরুলের অবসর নেয়ার ঘোষণার পরে মহাসচিবের বিষয়ে দলটির মধ্যে আলোচনা জোরালো হয়েছে। বিএনপির এই গুরুত্বপূর্ণ পদে সম্ভাব্য নতুন মুখ নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। দলীয় সূত্র বলছে, আসন্ন কাউন্সিলকে সামনে রেখে কয়েকজন শীর্ষ নেতা আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন।

আলোচনায় রয়েছেন যারা-

নতুন মহাসচিব হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে তার দক্ষতা এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় তিনি সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

এরপর সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, নীতিনির্ধারণ ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি হাইকমান্ডের আস্থাভাজন হিসেবে বিবেচিত। নতুন প্রজন্ম ও নীতি-ভিত্তিক রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব হিসেবেও আলোচনায় তার নাম উঠে আসছে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীও রয়েছেন আলোচনায়। দীর্ঘদিন দলের দপ্তর ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে রিজভীর। দলের দুঃসময়ে নিয়মিত ব্রিফিং ও মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় তৃণমূলেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাই দলের সম্ভব্য মহাসচিব পদে তার নামও আলোচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিও রয়েছেন আলোচনায়। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তার ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি দলের নীতি ও আদর্শের প্রতি অনুগত থেকে বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। সাংগঠনিক সংকট মোকাবেলা, কর্মী-সমর্থকদের একত্র রাখা এবং আন্দোলনকে গতিশীল করার ক্ষেত্রে তার দক্ষতা প্রমাণিত।

এদিকে মহাসচিব হিসেবে প্রায় ১৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অবসর ভাবনা এবং নতুন কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতির মধ্যেই এই পরিবর্তনের আলোচনা সামনে এসেছে। এছাড়া দল ক্ষমতায় আসার পর সরকার ও দল-দুই ক্ষেত্রেই ভারসাম্য রাখতে নতুন নেতৃত্ব আনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে বিএনপি। তবে শেষ পর্যন্ত কে মহাসচিব হচ্ছেন, তা নির্ভর করবে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত এবং কাউন্সিলের ওপর। দলীয় নেতারা বলছেন, অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা- এই তিন মানদণ্ডেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।