বিশ্বের ‘স্বৈরাচারী’ শাসকদের কঠোর সমালোচনা করে সম্প্রতি দেওয়া বক্তব্যটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন পোপ লিও। যুদ্ধের পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় নিয়ে পোপের ওই মন্তব্যের পর ট্রাম্পের সঙ্গে তার একপ্রকার বাদানুবাদ তৈরি হয়। তবে পোপ স্পষ্ট করেছেন যে, এই বক্তব্যটি অনেক আগেই তৈরি করা হয়েছিল।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) অ্যাঙ্গোলা যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পোপ লিও বলেন, ‘গত সপ্তাহের ওই ভাষণটি ট্রাম্পের মন্তব্যের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে লেখা হয়েছিল। অথচ বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন আমি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নতুন করে তর্কে জড়াতে চাচ্ছি। আসলে তার সঙ্গে বিতর্কে জড়ানো আমার উদ্দেশ্য নয়।
উল্লেখ্য, গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিহাসের প্রথম আমেরিকান পোপের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। ইরান-ইসরায়েল সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করায় ট্রাম্প পোপকে ‘পররাষ্ট্রনীতির জন্য ভয়াবহ’ হিসেবে আখ্যা দেন। এরপরই পোপের ক্যামেরুনের ভাষণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে।
আফ্রিকা সফররত পোপ গত বৃহস্পতিবার ক্যামেরুনে দেওয়া ভাষণে বলেছিলেন, নেতৃবৃন্দ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ধ্বংসযজ্ঞ এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যয় করছেন, অথচ শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। যুদ্ধের কারিগররা এটা বুঝতে চায় না যে, ধ্বংস করতে এক মুহূর্ত সময় লাগে, কিন্তু পুনর্গঠনে সারাজীবনও যথেষ্ট নয়।
দশকব্যাপী বিদ্রোহে বিপর্যস্ত ক্যামেরুনের একটি অঞ্চলকে ‘রক্তাক্ত’ অভিহিত করে সেখানে ‘অস্থিরতা ও মৃত্যুর অন্তহীন চক্রের’ নিন্দা জানান তিনি। পোপের এই মন্তব্যগুলো ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী নীতির দিকে ইঙ্গিত বলে মনে করেছিলেন অনেকে। এর জবাবে ট্রাম্প বলেছিলেন, পোপ যা খুশি বলতে পারেন, তবে আমি তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারি।
বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল যখন ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি না মানলে এবং হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ‘পুরো একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’। ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন পোপ লিও। প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প পোপকে ‘দুর্বল’ বলে উপহাস করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি নিজের একটি যিশু-সদৃশ ছবি পোস্ট করেন, যা পরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বর্তমানে পোপ লিও আফ্রিকার চারটি দেশের ১১টি শহর সফরে রয়েছেন। গত বছর পোপ নির্বাচিত হওয়ার পর এটি তার দ্বিতীয় বড় কোনো বিদেশ সফর। এই সফরকে আফ্রিকায় ক্যাথলিক ধর্মের গুরুত্ব এবং প্রভাবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি