‘ফুটবল ম্যাচে হার আসতেই পারে, আসল হলো ঘুরে দাঁড়ানো। একটা ম্যাচ হারলেই পৃথিবী শেষ হয়ে যায় না’ -চেলসির মাঠে ১–০ গোলে জয়ের পর মাইকেল ক্যারিকের এই বক্তব্য যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল। গত সোমবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে লিডসের কাছে হারের ধাক্কা সামলে গতকাল স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে জয় তুলে নিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এই জয়ের ফলে গত দুই মৌসুম পর আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেরার পথে বড় ধাপ পার করল তারা।
লিডসের কাছে সেই হারের পর চারদিকে শোরগোল উঠেছিল যে, ক্যারিক কি আদৌ ইউনাইটেডের ডাগ-আউটে থাকার যোগ্য? ১০ ফেব্রুয়ারির পর থেকে দলের পারফরম্যান্স ছিল গড়পড়তা, যদিও ফলাফলের বিচারে এই সময়ে প্রিমিয়ার লিগের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে এগিয়ে ছিল তারা। চেলসির বিপক্ষে জয়টি ফুটবলীয় সৌন্দর্যের দিক দিয়ে খুব একটা সুন্দর না হলেও ৩ পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্যটা ঠিকই পূরণ করেছেন ক্যারিক।
ম্যাচ শেষে ক্যারিক বলেন, ‘ফুটবল লিগ এমনই। সব জায়গায় নানা রকম ফল হচ্ছে। আমরা লিডসের কাছে হেরে খুব বেশি ভেঙে পড়িনি। আমরা জানতাম শেষ ১২টি ম্যাচের পারফরম্যান্সে আমরা সবার ওপরে ছিলাম। সেটিই আমাদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। এখানে আমরা স্রেফ ম্যাচটা জিততে এসেছিলাম এবং ছেলেরা সেটা করে দেখিয়েছে।’
চেলসির বিপক্ষে এই জয়টি আরও বিশেষ কারণ ক্যারিকের হাতে নিয়মিত কোনো সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ছিল না। ডি লিট ইনজুরিতে এবং মার্তিনেস ও ম্যাগুয়ার ছিলেন নিষিদ্ধ। শেষ মুহূর্তে লেনি ইয়োরো চোট পেয়ে ছিটকে গেলে ১৯ বছর বয়সী আইডেন হেভেনকে নামাতে বাধ্য হন ক্যারিক। অনভিজ্ঞ এই তরুণ ডিফেন্ডার এবং নুনো মাজরাউই মিলে চেলসির আক্রমণ সামলেছেন অসাধারণভাবে।
হেভেনের প্রশংসা করে ক্যারিক বলেন, “আইডেন সাম্প্রতিক সময়ে খুব বেশি ফুটবল খেলেনি। এমন পরিবেশে এসে মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়। আমি তরুণদের সবসময় বলি প্রস্তত থাকতে, কারণ সুযোগ কখন আসবে কেউ জানে না।”
ইউনাইটেডের এই জয়ের নায়ক ম্যাথিউস কুনহা হলেও কারিগর ছিলেন অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেস। চলতি লিগে এটি ছিল তার ১৮তম অ্যাসিস্ট, যা প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের রেকর্ড থেকে মাত্র ২ ধাপ দূরে। চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেরা নিশ্চিত করতে এখন শেষ ৫ ম্যাচ থেকে ৮ পয়েন্ট প্রয়োজন রেড ডেভিলদের। তবে লিভারপুলের কঠিন সূচি বিচারে এর চেয়ে কম পয়েন্টেও লক্ষ্য পূরণ হতে পারে। ৩ মে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচটি এখন ইউনাইটেডের জন্য মর্যাদার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।