সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) প্রকল্পে সরকারের সম্ভাব্য আর্থিক ঝুঁকি ও দায় আরও সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এখন থেকে পিপিপি প্রকল্পের বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার সময়ই ‘প্রচ্ছন্ন দায়’ নিরূপণ বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সম্প্রতি অর্থ বিভাগের এনটিআর, পিপিপি ও এনএসডি অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সরকারের ওপর বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে চাহিদাসংক্রান্ত ঝুঁকি, ব্যয়সংক্রান্ত ঝুঁকি, অর্থায়নসংক্রান্ত ঝুঁঁকি এবং রাজনৈতিক ও নিয়ন্ত্রক ঝুঁকি। এসব ঝুঁকি থেকেই ভবিষ্যতে সরকারের জন্য সম্ভাব্য আর্থিক দায় তৈরি হয়, যা ‘প্রচ্ছন্ন দায়’ হিসেবে বিবেচিত।
স্মারকে উল্লেখ করা হয়, পিপিপি প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্ত ট্রানজিকশন অ্যাডভাইজার (টিএ) সাধারণত প্রকল্পের ঝুঁকি নিরূপণ করে থাকে। সেই ঝুঁকির ভিত্তিতেই সরকারের সম্ভাব্য প্রচ্ছন্ন দায় নির্ধারণ করা সম্ভব। ফলে টিএ-এর টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর)-এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি বলে মনে করছে অর্থ বিভাগ।
এতে আরও বলা হয়, ‘সরকারি ঋণ আইন, ২০২২’ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি বা পাল্টা গ্যারান্টি থেকে উদ্ভূত দায় সরকারকে বহন করতে হয়। এ ধরনের দায় নিয়ন্ত্রণে রাখতে বার্ষিক ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণের বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে, অর্থ বিভাগ ছাড়া অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থা রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি দিতে পারে না।
এ প্রেক্ষাপটে পিপিপি প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি বা পাল্টা গ্যারান্টি প্রদানের মাধ্যমে সৃষ্ট সম্ভাব্য দায়ের বিষয়ে প্রকল্প চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই অর্থ বিভাগের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নতুন পিপিপি প্রকল্পে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার সময়ই প্রচ্ছন্ন দায় নিরূপণের বিষয়টি টিএ-এর দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি, নিরূপিত এই দায়ের বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে অর্থ বিভাগের মতামত বা অনাপত্তি নিতে হবে।
অর্থ বিভাগ মনে করছে, এ উদ্যোগ পিপিপি প্রকল্পে আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার করবে এবং সরকারের সম্ভাব্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।