রোমানিয়ার ফুটবল আকাশে বিষাদের ছায়ার মধ্যেই নতুন আশার আলো হয়ে ফিরলেন দেশটির সর্বকালের সেরা ফুটবলার গিওর্গে হ্যাজি। কিংবদন্তি কোচ মিরচা লুচেস্কুর আকস্মিক প্রয়াণে শূন্য হওয়া জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিলেন ‘কার্পেথিয়ান ম্যারাডোনা’ খ্যাত এই তারকা।
সোমবার (২০ এপ্রিল, ২০২৬) এক সংবাদ সম্মেলনে রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট রাজভান বার্লানু আনুষ্ঠানিকভাবে হ্যাজির নাম ঘোষণা করেন।
গত ২৯ মার্চ অনুশীলনের আগে অসুস্থ হয়ে পড়লে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল প্রবীণ কোচ মিরচা লুচেস্কুকে। গত ৭ এপ্রিল বুখারেস্টের ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ৮০ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে তুরস্কের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায়ের ক্ষণেই স্তব্ধ হয়ে যায় লুচেস্কুর যুগ। এরপরই অভিজ্ঞ কোনো উত্তরসূরির সন্ধানে নামে ফেডারেশন, যেখানে হ্যাজিই ছিলেন প্রথম পছন্দ।
এটি রোমানিয়ার ডাগআউটে হ্যাজির দ্বিতীয় অধ্যায়। এর আগে ২০০১ সালে খেলোয়াড়ি জীবন থেকে অবসর নেওয়ার পরপরই জাতীয় দলের কোচ হয়েছিলেন তিনি। তবে সেবার স্লোভেনিয়ার কাছে প্লে-অফে হেরে ২০০২ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়ায় মাত্র তিন মাসেই শেষ হয় তার যাত্রা। প্রায় ২৫ বছর পর এক অভিজ্ঞ কোচ হিসেবেই জাতীয় দলে ফিরলেন তিনি।
দায়িত্ব নিয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে হ্যাজি বলেন:“আবারও রোমানিয়ার প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য বড় সম্মান এবং একই সাথে বড় দায়িত্ব। খেলোয়াড় হিসেবে যা করেছি, আশা করি কোচ হিসেবেও তা করতে পারব। এখন মূল লক্ষ্য হলো পারফর্ম করা এবং সফল হওয়া।”
জাতীয় দলের দায়িত্ব পাওয়ার আগে হ্যাজি গালতাসারে, বুর্সাস্পোর, স্টুয়া বুখারেস্ট এবং নিজের ক্লাব ফারুল কনস্টান্টার মতো দলে কোচিং করিয়েছেন। তার কোচিং রেকর্ডে দুটি রোমানিয়ান লিগ শিরোপা, একটি রোমানিয়ান কাপ এবং গালতাসারের হয়ে তুর্কি কাপ জয়ের সাফল্য রয়েছে।
ফেডারেশন সভাপতি বার্লানু আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, “অনেক চেষ্টার পর আজ আমরা জিকা হ্যাজিকে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো পরবর্তী ম্যাচেই জয় নিশ্চিত করা।”