জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে প্লাস্টিকের বড় জারিকেনে করে পেট্রোল পাচারের সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহযোগিতায় নিয়ম ভেঙে বড় জারিকেনে তেল পাচার অভিযোগ স্থানীয়দের।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪টার পর থেকে উপজেলার ইসলাম পেট্রোলিয়াম নামে পাম্প থেকে বড় জারিকেনে করে কয়েকজন ব্যক্তিকে পেট্রোল নিয়ে যেতে দেখা যায়।
অভিযুক্ত উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান ট্যাগ অফিসার হিসেবে ইসলাম পেট্রোলিয়াম পাম্পে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া সকালেও বড় জারিকেনে পেট্রোল নেওয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ গ্রাহক ও কিছু পাচারকারীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকেই ইসলাম পেট্রোলিয়াম নামে একটি পাম্প থেকে গ্রাহকদের কাছে পেট্রোল সরবরাহ করেন। এ সময় মোটরসাইকেল চালক ও সাধারণ গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এর মধ্যেই কয়েকজন ব্যক্তি বড় বড় প্লাস্টিকের জারিকেন নিয়ে পেট্রোল নেয়। পরে আবার আরোও কয়েকজন জারিকেন নিয়ে পেট্রোল নিতে আসলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ গ্রাহকরা বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) উপস্থিতিতে তেল বিক্রি শুরু হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) চলে যাওয়ার পর আবারও বড় জারিকেনে পেট্রোল পাচার শুরু হয়। এ সময়ে পাম্পে ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কর্মকর্তার সহযোগিতায় নিয়ম ভেঙে বড় জারিকেনে তেল পাচার হয়েছে। বড় জারিকেনে তেল নিতে বাধা দিলে হাসপাতাল বা ব্যাংকের অজুহাত দিয়ে জারিকেনে দিয়েছেন। এ ছাড়া লাইন ছাড়াই কর্মকর্তাদের পরিচিত বাইকের তেল দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ট্যাগ অফিস মো. আরিফুর রহমান বলেন, সকালে আমি ছিলাম না, কি হয়েছে সেইটা জানি না। হাসপাতাল, ব্যাংক ও পরীক্ষার কেন্দ্রে থেকে আবেদন করেছিলেন তাদের পেট্রোল দেওয়া হয়েছে।
মেলান্দহ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা আক্তার জ্যোতি বলেন, আমি বিকাল পর্যন্ত ছিলাম। পাচারে বিষয়ে জানি না। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।