সীমানা ছাড়িয়ে অনেকদিন পর ঈদের সিনেমার বিনোদন ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। এবার ঈদে মুক্তি পাওয়া পাঁচটি সিনেমার মধ্যে শাকিব খানের ‘প্রিন্স’ বাদে বাকিগুলো প্রথম সপ্তাহ থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। তৃতীয় সপ্তাহে এসে সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে প্রিন্স চলচ্চিত্রটিও। গত শনিবার থেকে ইতালির ভেনিস ও রোম শহরের দুইটি প্রেক্ষাগৃহে দেখা যাচ্ছে সিনেমাটি। প্রিন্সের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মস জানিয়েছে, ইতালিতে প্রিন্সের যে ডিসিপি (ডিজিটাল সিনেমা প্রজেকশন) ফাইল যাবে সেটি নতুন করে সংস্করণ করা হয়েছে। ফলে প্রিন্স নিয়ে দেশে মুক্তির সময়ে যে জটিলতা দেখা দিয়েছিল তা কাটিয়ে উঠে আরও নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয়েছে। বিদেশের দর্শকরা সিনেমাটির নিখুঁত প্রদর্শনী উপভোগ করতে পারছে। আগামীতে আরও কয়েকটি দেশে প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা।
এবার ঈদের সিনেমাগুলো মুক্তির প্রথম দিন থেকেই দর্শকের মধ্যে বেশ সাড়া জাগানোর দরুন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাহিদা তৈরি হয়। এর মধ্যে রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’ সিনেমাটি শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।১০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তির মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় সিনেমাটির প্রদর্শনী সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। এ ঘটনাকে বাংলা সিনেমার জন্য বড় অর্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। গত শুক্রবার থেকে উত্তর আমেরিকায় সিনেমাটি পরিবেশন করছে বাইস্কোপ ফিল্মস। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার রাজ হামিদ বলেন, “সিনেমা হলের সংখ্যা অবিশ্বাস্য রকমের বাড়ার একমাত্র কারণ দর্শক চাহিদা। এ ছাড়া আর কোনোভাবে এটা সম্ভব নয়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে দলবেঁধে দর্শক ‘দম’ দেখতে প্রেক্ষাগৃহে আসছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ে খুব কম সিনেমার ক্ষেত্রেই দেখা যায়।’
যুক্তরাষ্ট্রে ‘দম’ সাতটি হল থেকে বেড়ে ৫০টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। একই দিনে কানাডার আরও আটটি হলে শুরু হয়েছে সিনেমাটির প্রদর্শনী। সব মিলিয়ে তৃতীয় সপ্তাহে এসে উত্তর আমেরিকাজুড়ে মোট ৫৮টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে দম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো বিষয়টি ঘটেছে শুধু দর্শকের চাহিদার কারণে, যা প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে বাংলা সিনেমার প্রতি আগ্রহের একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে। অনেকের মতে, সিনেমাটির ভিজ্যুয়াল, গল্প ও অভিনয় ‘আউটস্ট্যান্ডিং’ এবং এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা। কেউ কেউ এটিকে বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য নতুন এক মাইলফলক হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে এসবিএফ আলফা আই ও চরকি। ঈদের অন্যতম সিনেমা ‘রাক্ষস’ ইতালির পর চলতি সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রদর্শিত হচ্ছে। রোমান্টিক অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন মেহেদী হাসান হৃদয়। আন্তর্জাতিক পরিবেশক গ্যালাক্সি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, উত্তর আমেরিকার ৯টি শহরে চলছে রাক্ষস। গ্যালাক্সি মিডিয়ার কর্ণধার বদরুদ্দোজা সাগর বলেন, আমরা সবসময়ই ভিন্নধর্মী ও শক্তিশালী গল্পের বাংলা সিনেমা দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। রাক্ষস এমন একটি চলচ্চিত্র, যা শুধু বিনোদনই দেবে না দর্শকদের ভেতর থেকে নাড়িয়ে দেবে। উত্তর আমেরিকার প্রেক্ষাগৃহে এটি হবে একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। আশা করি, সিনেমাটি দারুণ সাড়া পাবে দর্শকদের। পরিবেশন প্রতিষ্ঠানের সূত্রে জানা যায়, মিশিগানের স্টার্লিং হাইটস শহরের একটি এএমসি থিয়েটারে ছবিটির প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার আরও কয়েকটি শহরে প্রদর্শন শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ৬০টিরও বেশি শো চলবে রাক্ষসের।
এদিকে তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মুক্তির প্রথম দিন থেকেই সৌরভ ছড়াচ্ছে দেশের দর্শকের কাছে। মাত্র চার দিনেই ১ কোটির বেশি টাকার টিকিট বিক্রি করে এটি বাণিজ্যিক সফলতার ইঙ্গিত দেয়। সেই ধারাবাহিকতায় সিনেমাটি প্রথমদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরের ১৯টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়। বুড়িগঙ্গা টকিজ প্রযোজিত এই সিনেমাটি চলতি সপ্তাহ থেকে উত্তর আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যে মোট ২২টি থিয়েটারে দেখানো হচ্ছে। সিনেমায় অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, ইন্তেখাব দিনার, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, সাবিলা নূর ও শরীফুল রাজসহ আরও অনেকে। সিনেমাটির সহ-প্রযোজনায় রয়েছে হইচই প্রোডাকশন। এখন দেখার বিষয় আর কতদূর যাবে সিনেমাটি।
অন্যদিকে ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমাটিও প্রদর্শিত হচ্ছে আগামী সপ্তাহে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার। পাশাপাশি আগামী ২২ এপ্রিল লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভালে প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হবে সিনেমাটির। বিশেষ প্রদর্শনীতে চলচ্চিত্রটির পরিচালক রায়হান রাফী উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। চার নারীর ভিন্ন ভিন্ন যাত্রা তুলে ধরতে ‘প্রেশার কুকার’ নামের সিনেমা বানিয়েছেন পরিচালক নির্মাতা রায়হান রাফী। এতে অভিনয় করেছেন শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, স্নিগ্ধা চৌধুরী ও মারিয়া শান্ত।