সার্ভিক্যাল ক্যানসার বা জরায়ুমুখ ক্যানসার নারীদের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা। কিন্তু আশার কথা হলো, এই ক্যানসার হঠাৎ করে হয় না এবং সময়মতো সচেতন হলে প্রায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। দুঃখজনকভাবে সচেতনতার অভাবে এখনো অনেক নারী দেরিতে চিকিৎসকের কাছে যান।
সার্ভিক্যাল ক্যানসার কীভাবে হয়
সার্ভিক্যাল ক্যানসারের মূল কারণ হলো ঐচঠ (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস)। এটি খুবই সাধারণ ভাইরাস, যা সাধারণত যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। বেশিরভাগ নারীর শরীর এই ভাইরাসকে নিজে থেকেই দূর করে দেয়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাসটি দীর্ঘদিন শরীরে থেকে যায় এবং ধীরে ধীরে জরায়ুমুখের কোষে পরিবর্তন ঘটায়। এই পরিবর্তনগুলো চিকিৎসা না করলে বছরের পর বছর ধরে ক্যানসারে রূপ নিতে পারে।
ঐচঠ টিকা
১. ৯-১৪ বছর বয়সে টিকা নিলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।
২. বিয়ের আগে বা যৌন জীবন শুরুর আগে নেওয়া হলে সুরক্ষা সবচেয়ে বেশি।
৩. বড় বয়সের নারীরাও চিকিৎসকের পরামর্শ টিকা নিতে পারেন।
এই টিকা শরীরকে ভাইরাসের ক্ষতিকর ধরন থেকে আগেই রক্ষা করে, ফলে ভবিষ্যতে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
নিয়মিত পরীক্ষা
সার্ভিক্যাল ক্যানসার স্কিনিং খুব জরুরি
১. ঠওঅ ঞবংঃ : সহজ, কম খরচে করা যায়, সরকারি হাসপাতালে পাওয়া যায়।
২. চঁঢ়ং ঞবংঃ : জরায়ুমুখের কোষ পরিবর্তন আছে কিনা জানায়।
৩. ঐচঠ-উঘঅ ঞবংঃ : ভাইরাস আছে কিনা নির্ভুলভাবে শনাক্ত করে।
৩০ বছরের পর প্রত্যেক নারীর অন্তত একবার হলেও এই পরীক্ষা করা উচিত।
লক্ষণ
নিচের লক্ষণগুলো দেখলে অবশ্যই স্কিনিং করতে হবে।
১. সহবাসের পর রক্তপাত
২. মাসিকের বাইরে বা বেশি রক্তপাত
৩. দুর্গন্ধযুক্ত বা অস্বাভাবিক স্রাব যৌনিপথের
৪. তলপেট ব্যথা
সচেতনতা থেকেই প্রতিরোধ
পরিবার, সমাজ এবং নিজের মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য সচেতন হওয়াই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
ঐচঠ টিকা+নিয়মিত পরীক্ষা+সচেতন জীবনযাপন=সার্ভিক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধ
পরিসংখ্যা ও প্রতিরোধ
সার্ভিক্যাল ক্যানসার বা জরায়ুমুখের ক্যানসার শুধু আন্তর্জাতিক ইস্যু নয় এটি বাংলাদেশেও একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা, কিন্তু সচেতনতা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে এ রোগ প্রতিরোধযোগ্য।
বাংলাদেশের আসল পরিসংখ্যান
বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৮,২০০-৮,৩০০ নারী সার্ভিক্যাল ক্যানসারে আক্রান্ত হন। ঐচঠ ঈবহঃৎব +১
প্রায় ৪,৯০০-৫,০০০ নারী এই ক্যানসারের কারণে প্রতি বছর মারা যান। ঐচঠ ঈবহঃৎব +১
সার্ভিক্যাল ক্যানসার বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক সাধারণ ক্যানসার। ডড়ৎষফ ঐবধষঃয ঙৎমধহরুধঃরড়হ
বাংলাদেশে ঐচঠ স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম চলছে, কিন্তু এখনো অনেক নারী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না। আমরা লাখ লাখ নারী এখনো স্ক্রিনিংয়ে যেতে পারেননি এবং ৩০ লাখেরও বেশি নারী ঐচঠ-স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন।