আমদানিনীতি জানতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র

দেশের নতুন আমদানি নীতি আদেশ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের কাছে জানতে চেয়েছেন দেশটির বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এর আগে মন্ত্রীর সঙ্গে তার দপ্তরে বৈঠক করেছেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল। উভয় বৈঠক সম্পর্কে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংসদীয় কার্যক্রম সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যা গণতন্ত্র চর্চার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তিনি উল্লেখ করেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ উভয় দেশের জন্যই কল্যাণকর হবে।

এ সময় রাষ্ট্রদূত জানান, বাণিজ্য সংলাপ জোরদারের অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের (ইউএসটিআর) দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী ব্রেন্ডান লিঞ্চ শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নতুন আমদানিনীতি আদেশ প্রণয়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহ কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬’-এর খসড়া ব্যবসায়ী মহলের মতামতের জন্য প্রেরণ করা হবে। বৈঠকে উভয় পক্ষই বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নীতিগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (চলতি দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পলিটিক্যাল ইকোনমিক কাউন্সিলর এরিক গিলান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের বৈঠক সম্পর্কে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তার দপ্তরে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ সময় উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে কাজ করছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করছে। তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল করা, নতুন শিল্প স্থাপন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমানে সরকারের অগ্রাধিকার।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সম্পদসমৃদ্ধ শিল্প খাতকে কার্যকর করা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে এগুলোকে উৎপাদনমুখী করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ সময় তিনি বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে অস্ট্রেলিয়ান বিনিয়োগ বাড়াতে আহ্বান জানান।

অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার বলেন, দুদেশের মধ্যকার বাণিজ্য বর্তমানে প্রায় ৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জ্বালানিবিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সবুজ জ্বালানি, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি সহযোগিতার সুযোগসমূহ পর্যালোচনা করছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়নরত রয়েছে এবং দেশটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষই বাণিজ্য, শিক্ষা ও শিক্ষা বৃত্তির ক্ষেত্র সম্প্রসারণ ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।