লেস্টারের ঐতিহাসিক পতনের পর হামজা চৌধুরীর ভবিষ্যৎ কী

ঠিক ১০ বছর আগে যারা প্রিমিয়ার লিগ জিতে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল, গতকালকের ড্রয়ের পর তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তর বা ‘ইএফএল লিগ ওয়ান’-এ নেমে গেছে। এই চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্লাবের ঘরের ছেলে এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তারকা হামজা চৌধুরীর ভবিষ্যৎ।
 
২০২৪-২৫ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপে অবনমনের পর আশা করা হয়েছিল লেস্টার দ্রুত প্রিমিয়ার লিগে ফিরবে। কিন্তু মাঠের ব্যর্থতা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতায় ক্লাবটি এখন তৃতীয় স্তরের ফুটবলারদের কাতারে। শেফিল্ড ইউনাইটেডে লোন স্পেল শেষ করে এই মৌসুমেই লেস্টারে ফিরেছিলেন হামজা। 

চুক্তির জটিলতা ও আর্থিক সমীকরণ

লেস্টার সিটির সাথে হামজার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ রয়েছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। বর্তমানে তিনি বছরে প্রায় ২৬ লাখ ডলার বেতন পান। তবে লিগ ওয়ানে অবনমন হওয়ায় ক্লাবের আয় নাটকীয়ভাবে কমে যাবে, যার প্রভাব পড়তে পারে ফুটবলারদের বেতনে। চুক্তি অনুযায়ী, নিম্ন স্তরে নেমে গেলে অনেক সময় খেলোয়াড়দের বেতন ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পায়। এমন পরিস্থিতিতে হামজা কি ২০২৭ পর্যন্ত লেস্টারে থাকবেন, নাকি ক্লাব ছাড়বেন—তা নিয়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন।

বাংলাদেশের জার্সিতে নতুন মিশন

ক্লাব ফুটবলে দুঃসময় চললেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে হামজা এখন বাংলাদেশের নতুন পোস্টার বয়। ২০২৫ সালের শুরু থেকে বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সিতে অভিষেক হওয়ার পর থেকেই তিনি দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রে। লেস্টার সিটি তৃতীয় স্তরে নেমে যাওয়ায় হামজার ম্যাচ প্র্যাকটিস এবং ফিটনেস নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও, বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য তিনি এখনও বড় ভরসার নাম।

পরবর্তী গন্তব্য কোথায়?

ফুটবল মহলে গুঞ্জন রয়েছে, লিগ ওয়ানে খেলার চেয়ে হামজা হয়তো ইউরোপের অন্য কোনো দেশের শীর্ষ লিগে পাড়ি জমাতে পারেন। গ্রিসের অলিম্পিয়াকোস এবং তুরস্কের কয়েকটি ক্লাব ইতোমধ্যে তার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে লেস্টার যদি তাকে ধরে রাখতে চায়, তবে তাকে তৃতীয় স্তরের ফুটবল খেলেই ক্লাবকে পুনরায় চ্যাম্পিয়নশিপে তোলার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।
এখন দেখার বিষয়, শৈশবের ক্লাবের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে হামজা ‘লিগ ওয়ান’-এ খেলেন, নাকি নতুন কোনো চ্যালেঞ্জের খোঁজে কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামকে বিদায় জানান।