আবার অস্ট্রেলিয়া মাতানোর প্রস্তুতি রুনা লায়লার

গানে গানে অগণিত শ্রোতার হৃদয় জয় করে পথচলার ছয় দশক পূর্ণ করেছেন দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। ১৯৬৪ সালের ২৪ জুন মাত্র ১২ বছর বয়সে ‘জুগনু’ সিনেমার গান ‘গুড়িয়া সি মুন্নি মেরি ভাইয়া কি পেয়ারি’ দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল তার। সেই প্রথম গানের অনিন্দ্য কণ্ঠ ও অনবদ্য গায়কিতে শ্রোতারা মুগ্ধ হন, আর সেখান থেকেই শুরু হয় তার দুর্বার সংগীতযাত্রা; যা আজও থেমে যায়নি।  বরং সংগীত নিয়ে আরও দূর এগিয়ে যেতে চান আলোকিত এই তারকা। তিনি জানান শুধু দেশে বা উপমহাদেশেই নয়, তার গানের সৌরভ ছড়িয়ে দিতে চান বিশ্বজুড়ে।

সেই ধারাবাহিকতায় এবার তার সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে দেবেন অস্ট্রেলিয়ায় সিডনি ও মেলবোর্নে। পৃথক দুটি কনসার্টে সংগীতপিপাসুরা মন্ত্রমুগ্ধ হবেন তার গানে। আগামী ১ আগস্ট নরওয়েস্ট কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে ‘রুনা লায়লা লাইভ ইন সিডনি’। এরপর ৮ আগস্ট মেলবোর্ন রিসাইটাল সেন্টারে রয়েছে আরেকটি কনসার্ট। কনসার্ট দুটির খবর নিশ্চিত করে রুনা লায়লা বলেন, ‘কনসার্ট দুটি খুব বড় পরিসরে হচ্ছে। আমি আশাবাদী, ভালো কিছু হবে। আয়োজকরা আমাকে জানিয়েছেন, এরই মধ্যে টিকিট বিক্রিতে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।’

রুনা লায়লার কাছ থেকে জানা গেছে, সাতজন যন্ত্রশিল্পীকে নিয়ে আগামী ২৯ জুলাই সিডনির উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। কনসার্ট দুটিতে গানে গানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মন ভরিয়ে ১০ আগস্ট দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তার। রুনা লায়লা বলেন, ‘অনেক বছর হয়ে গেল তো! এক দশকের মতো। দুই বাংলার শিল্পীদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান ছিল ওটা।’

ছয় দশকের বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য সংগীত জীবনে বাংলা, হিন্দি, পাঞ্জাবি, গুজরাটি, উর্দু, সিন্ধি, ইংরেজিসহ মোট ১৮টি ভাষায় ১০ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন রুনা লায়লা। তার ঝুলিতে আছে অসংখ্য প্রাপ্তি। কালজয়ী অসংখ্য গান উপহার দিয়েছেন, বলিউডে খ্যাতিমান সুরকার ও কণ্ঠশিল্পীদের সঙ্গে গান করেছেন, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস গড়েছেন, গোল্ড ডিস্ক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন, চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, মডেল হয়েছেন, রিয়েলিটি শোর বিচারকের আসনে বসেছেন, মানবতার কল্যাণে ভূমিকা রেখেছেন। এমন আরও অনেক কিছু যুক্ত হয়েছে তার নামের পাশে।

রুনা লায়লা মোট আটবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। ‘দি রেইন’, ‘জাদুর বাঁশি’, ‘অ্যাক্সিডেন্ট’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘দেবদাস’, ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’ ও ‘তুমি আসবে বলে’ সিনেমায় গান গেয়ে সেরা গায়িকা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এ ছাড়া ‘একটি সিনেমার গল্প’র জন্য শ্রেষ্ঠ সুরকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এসেছে তার ঘরে। এই সংগীতশিল্পী বলেন, ‘আমি ভীষণ ভাগ্যবতী যে, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। এখনো গান গাইতে পারছি, সুর করছি। এটাই অনেক বড় আশীর্বাদ। আজীবন সংগীতের সঙ্গে থাকতে চাই।’