‘আরও ভালো কিছু উপহার দিতে চাই’

নাজনীন হাসান খান। নাট্য নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি পেলেও বিচারক হিসেবে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। অর্ধশতাধিক নাটক-টেলিফিল্ম নির্মাণ করা এই নির্মাতা কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন একগুচ্ছ পুরস্কার। সম্প্রতি তিনি প্রথমবার চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। অচিরেই তিনি শুরু করবেন বিদায় বেলা নামের একটি শর্টফিল্ম। ক্যারিয়ার, শোবিজের চলমান অবস্থা, নিজের পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে কথা হলো তার সঙ্গে

সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা কীভাবে মাথায় এলো?

সত্যি বলতে হঠাৎ করে নয়, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা এটি। আসলে বিনোদনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম তো চলচ্চিত্র। নাটক নির্মাণ করতে করতেই সিনেমার চিন্তা মাথায় আসে। সেই চিন্তা থেকেই প্রস্তুতি শুরু। ইতিমধ্যে সিনেমার নাম ও অভিনয়শিল্পী চূড়ান্ত হয়ে গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরই শুরু হবে আমার সিনেমাযাত্রা।

এটা কী ধরনের সিনেমা?

এটা মূলত জীবন সায়াহ্নের গল্প তুলে ধরে নির্মাণ করা হবে। আমরা যে ধর্মেই বাস করি কিংবা আমাদের চরিত্র যেমনই হোক একসময় মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এর গল্পটি লিখেছেন রাজীব মণি দাস। গল্পটি অনেক আকর্ষণীয়। আশা করি সবার মনে কিছুটা হলেও দাগ কাটবে আমার এই বিদায় বেলা সিনেমাটি।

১৬ বছরের লম্বা ক্যারিয়ার পাড়ি দেওয়া কীভাবে সম্ভব হলো?

ইচ্ছা শক্তিই একটা মানুষকে তার লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে। আর অনুপ্রেরণার জায়গাটা হচ্ছে আমার স্বামী। যিনি আমাকে কখনো কোনো সীমাবদ্ধতার মধ্যে রাখতে চাননি। এখনো আমার সব কাজে সে উৎসাহ জোগায়। সংসার ও মিডিয়া দুইটাই আমার কর্মক্ষেত্র।

শোবিজে আসলেন কে?

এক কথায় বলতে গেলে, সৃজনশীলতার বিন্যাসকরণের টানে। আমার মনে হয়েছে এই একটি মাধ্যম আছে, যার মাধ্যমে নিজের মনের কথা, সমাজের কথা, মানুষের দুর্দশার কথা, মানুষকে অনুপ্রেরণা দেওয়া, জীবন বদলের গল্প তুলে ধরা ইত্যাদি নানাবিধ পরিবর্তন ঘটানো যায়। তাই এই জগতে আসা।

নির্মাণের ইতিবাচক ও নেতিবাচক বিষয়ে মন্তব্য কী?

আমার অভিজ্ঞতার আলোকে যদি বলি তাহলে বলব, ইতিবাচক বিষয় হলো একটি গল্পের মাধ্যমে এক সঙ্গে লক্ষ কিংবা কোটি মানুষের কাছে অল্প সময়ে মেসেজ পৌঁছানো যায়। আর নেগেটিভ দিক হলো কেউ কেউ ভিউ নিয়ে বাড়াবাড়ি এবং কাড়াকাড়ি। যা তরুণ প্রজন্মের কাছে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

চলমান সময়ের নাটক এবং আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

বর্তমানে আসলে অনেক ভালো নাটকই হচ্ছে। আগে নাটকের একটা বাজেট সীমিত ছিল। এখন এর পরিধি অনেক ব্যাপক। সব কিছুতেই বিশাল একটা পরিবর্তন এসেছে। আমার মনে হয় মেধাবী নির্মাতাদের এগিয়ে আসায় নাটক ক্রমেই ভালোর দিকে যাচ্ছে। আর আমি ও আগামীতে আরও ভালো কিছু উপহার দিতে চাই দর্শককে।