আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ শুরু করেছে সরকার। একইসঙ্গে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করতেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য শিল্পাঞ্চলে দুষ্কৃতকারীদের দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
গতকাল বুধবার গাজীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিল্প মালিক ও শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের উৎসবের আনন্দ নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে হবে। এ বিষয়ে কারখানা মালিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী।
সভায় বক্তারা ঢাকা ও গাজীপুরের শ্রমঘন শিল্পাঞ্চলের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে কারখানাগুলোর জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এ সময় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান বাবু কারখানার জেনারেটরের জন্য ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের সহায়তা চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমমন্ত্রী পেট্রোল পাম্পগুলোতে সংশ্লিষ্ট কারখানার নাম ও প্রাপ্য ডিজেলের পরিমাণ উল্লেখ করে নোটিস টানানোর নির্দেশ দেন, যেন স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি শিল্পঘন এলাকায় লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।
দুর্বল আর্থিক অবস্থায় থাকা কারখানাগুলো চিহ্নিত করে নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ভাসমান ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।
সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ওমর মো. ইমরুল মহসিন এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুছ সামাদ আল আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। এছাড়া বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং শিল্প মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।