যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালনি সংকট আরও বাড়তে পারে এ আশঙ্কায় রপ্তানি পণ্যের ক্রেতারা ক্রয়াদেশ স্থগিত করছে বলে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। গতকাল বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান। বাংলাদেশ ছেড়ে এসব ক্রয়াদেশ ভারতসহ অন্য দেশে চলে যাচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এতে দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত এক গভীর সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিসিআই সভাপতি।
তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং বিদ্যুৎ সংকটসহ অভ্যন্তরীণ কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে জুলাই-আগস্টের সম্ভাব্য অনেক ক্রয়াদেশ থমকে গেছে। একইসঙ্গে ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য বিদ্যমান কর কাঠামো বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিসিআই সভাপতি বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ কারণে অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এখন ইন্ডিয়া বা অন্য দেশের দিকে ঝুঁকছে। আগামী জুলাই এবং আগস্ট মাসের জন্য যে পরিমাণ অর্ডার আসার কথা ছিল, তা অত্যন্ত ধীর হয়ে গেছে। অনেক বড় ক্রেতা এরইমধ্যে নেতিবাচক বার্তা দেওয়া শুরু করেছে।
আসন্ন বাজেটে আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা অনুযায়ী, কর কমিশনার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবারিত ক্ষমতার বিষয়েও কথা বলেন আনোয়ার-উল আলম। তিনি বলেন, কর যাচাইয়ের নামে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করছে। এ সময় কোম্পানি ব্যাংক আমানতের মুনাফার ক্ষেত্রে উৎসে কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ, সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিলের দাবি জানায় ঢাকা চেম্বার। করের বোঝা না চাপিয়ে ব্যবসা সহায়ক কর কাঠামোর তৈরির দাবিও জানায় ডিসিসিআই।