একই দিনে ঢাবিতে ছয় সাংবাদিককে হেনস্তা ছাত্রদলের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) একই দিনে পৃথক দুটি ঘটনায় ছয়জন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ও গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সন্ধ্যায় বিজয় একাত্তর হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করতে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) তিন সদস্য হেনস্তার শিকার হন। এ সময় প্রাইম বাংলাদেশের ঢাবি প্রতিনিধি ইফতেখার সোহান সিফাতকে ভিডিও করতে বাধা প্রদান ও হেনস্তা করেন ছাত্রদল কর্মী নাভিদ আনজুম নিভান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিফাত নিজের সাংবাদিক পরিচয় দিলেও নিভান তাকে ভিডিও ধারণে বাধা দিয়ে বলেন, সাংবাদিক হলেই এখানে ভিডিও করা যাবে না।

এ সময় ডুজার আরও দুই সদস্য- দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান খান ও নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি হারুন ইসলাম প্রতিবাদ জানালে তারাও হেনস্তার শিকার হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় হল সংসদের কক্ষের সামনে দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে। পরে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল থেকে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে একই দিন গভীর রাতে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলে পৃথক আরেক ঘটনায় আরও তিন সাংবাদিক হেনস্তা করা হয়েছে। হলটিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা এ ঘটনার শিকার হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হলের একটি কক্ষে হাউজ টিউটরের উপস্থিতিতে বৈঠক চলাকালে তিন সাংবাদিক সেখানে প্রবেশ করলে তাদের বের হয়ে যেতে বলা হয়। এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের দিকে তেড়ে আসেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

শহীদুল্লাহ্ হলে সাংবাদিক হেনস্তার সাথে অভিযুক্তরা হলেন- শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইইই বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী জুনায়েদ আবরার, যুগ্ম আহ্বায়ক ২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী হাদি-উল ইসলাম, কমিটির সদস্য নূর মোহাম্মদ, ফিশারিজ বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম নাহিদ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের সাফিন আল মাহমুদ খান সিফাত। 

হেনস্তার শিকার ডেইলি অবজারভারের ঢাবি প্রতিনিধি জানান, আমরা পরিচয় দেওয়ার পরও বলা হয়-‘হলের বিষয়, বাইরে থেকে কেন আসছেন।’ এরপর কয়েকজন আমাদের দিকে তেড়ে আসে এবং মারধরের চেষ্টা করে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় হাউজ টিউটর উপস্থিত থাকলেও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

প্রথম ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসায় বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে যান ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামিমসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা। সেখানে তারা সাংবাদিকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্ক থাকার আশ্বাস দেন।

তবে একই দিনে পরপর দুই ঘটনায় ছয় সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ উঠায় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন,  গত রাতে এটা নিয়ে উপাচার্যের সাথে রাত তিনটায় আমি যোগাযোগ করি। তিনিও শহিদুল্লাহ হলের প্রভোস্টকে বলেছেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।  

তিনি আরও বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি হল পর্যায়ে এরকম মুখোমুখি অবস্থান গত ২০ মাসে ছিল না। আমরা এটার উপরে নজর রাখছি। এই প্রেক্ষাপটেই আজকে রাত ১০টায় অনলাইনে মিটিং হবে প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির। সেখানে আমরা এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। আলোচনা করে আমরা একটা উপায় বের করার চেষ্টা করব।