বাঁচতে চায় ছোট্ট রুহি

জন্মের পর থেকেই অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছে ছোট্ট রুকাইয়া সুলতানা রুহি (৯)। হার্টে একাধিক ছিদ্র আর মস্তিষ্কে টিউমার। এই দুই ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে সে। 

কোমলমতি শিশু রুকাইয়া সুলতানা রুহির যে বয়সে বাবার কাঁধে মাথা রেখে নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার কথা, সেই বয়সেই অসুস্থতার ভারে নুয়ে পড়েছে তার ছোট্ট জীবন। অসুখের কারণে যে বাবার আরও বেশি পাশে থাকার কথা ছিল, সেই অসুখই যেন কেড়ে নিয়েছে বাবার সান্নিধ্য। জীবনের শুরুতেই এত বড় বঞ্চনা এ যেন নিষ্ঠুর সময়ের নির্মম পরিহাস। রুহির জীবনে যেন সুখ নামের শব্দটাই হারিয়ে গেছে। অসুস্থতা কেড়ে নিয়েছে তার শৈশব, ভেঙে দিয়েছে পরিবার, দূরে সরিয়ে দিয়েছে বাবাকে। অথচ তার চাওয়া খুব ছোট একটু সুস্থ জীবন, আর সবার মতো স্বাভাবিক শৈশব।

উপজেলার জাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের পাঁচুড়িয়া গ্রামে মোঃ রমজান আলী (৩২) ও জান্নাতুল ফেরদৌস (৩০) দম্পতির বড় কন্যা শিশু রুকাইয়া সুলতানা রুহি। রুহি বর্তমানে ওই একই ইউনিয়নে সান্যালপাড়া গ্রামে তার নানা ও নানী আব্দুল মান্নান (৫০) ও আমিরন বেগম(৪৫) এর বাড়িতে বসবাস করছে। নান আব্দুল মান্নান কিডনি রোগে ও নানী আমিরন বেগম স্তন ক্যানসারে ভুগছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের পর থেকেই রুহির হার্টবিট অস্বাভাবিক ছিল। মাত্র তিন মাস বয়সে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তার হার্টে একটি ছিদ্র ধরা পড়ে। এবং চিকিৎসা নিয়ে বেশ ছিল রুহি। চিকিৎসকের পরামর্শে টানা চার বছর ওষুধ চললেও আর্থিক সংকটে সেই চিকিৎসাও এক সময় বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা, রুহির দাদার স্ট্রোক জনিত অসুস্থতা সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ বছর ধরে রুহির চিকিৎসা বন্ধ ছিল। এরই মধ্যে রুহিকে নিয়ে পারিবারিক অশান্তির জেরে ২০২৫ সালের শুরুতে রুহির মা তাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এরপর থেকে তার বাবাও আর খোঁজখবর নেননি এবং চলতি বছরের মার্চে রুহির মাকে তালাক দেন।

গত বছরই নভেম্বরে জ্বর,সর্দি ও তীব্র মাথাব্যথা দেখা দিলে রুহিকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয় । সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রথমে মস্তিকে টিউমার সনাক্ত করেন। একই সঙ্গে তার হার্টে আরও তিনটি ছিদ্র থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত হয়। এবং সেই সময়েই তার শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে যায়। এর পর থেকেই মাঝে মাঝে অস্বাভাবিক আচরণ করে, চিৎকার করে কাঁদে এবং নিজের দৈনন্দিন কাজের নিয়ন্ত্রণও হারিয়ে ফেলেছে। 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকায় নিতে হবে এবং প্রয়োজনে দেশের বাইরেও নিতে হতে পারে। এর জন্য প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন, যা এই অসহায় পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।

বর্তমানে রুহি তার নানার বাড়িতে অবস্থান করছে। নানা আব্দুল মান্নান (৫০) পেশায় রাজমিস্ত্রি হলেও বয়স ও অসুস্থতার কারণে আগের মতো কাজ করতে পারেন না। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছেন। অন্যদিকে নানী আমিরন বেগম (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত। নিজেদের চিকিৎসা খরচ চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে রুহির চিকিৎসা যেন তাদের জন্য আরও বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রুহির নানা আব্দুল মান্নান  বলেন, আমরা খুব গরীব মানুষ। আমার জায়গা জমি কিছু নাই। আমার পক্ষে রুহির চিকিৎসা করানো অসম্ভব। রুহিকে তার বাবা দেখে না, ওদের পরিবারের কেও খোঁজখবর রাখেনা। আমি আর পারছিনা। আমি নিজেও অসুস্থ রুহির নানি ক্যানসারের রোগী। সকলের কাছে রুহির জন্য সাহায্যর আবেদন জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা ও মহল্লার মুদি দোকানী রুবেল আলী জানান, রুহির অসুস্থতার কারণে তার বাবা ও মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। রুহি খুব অসহায় মেয়ে। তার নানা ও নানী দুইজনই অসুস্থ্য তাদের পক্ষে রুহির ব্যয় ভার বহন করা খুব কঠিন। তিনি দেশবাসিকে রুহির পাশে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান।

সান্যালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, রুহি আমাদের স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। সে খুব ভালো ছাত্রী ছিল। অসুস্থতার কারণে সে দ্বিতীয় শ্রেণীতে বার্ষিক পরীক্ষা দিতে পারেনি। আমরা চাই সে আবার সুস্থ হয়ে স্কুলে ফিরে আসুক। সকলকে রুহিকে মানবিক সহায়তা করার জন্য অনুরোধ করেন।

ওই এলাকার ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল মান্নান বাদশা বলেন, রুহির অত্যন্ত অসহায় এক মেয়ে। সে নানীর বাড়িতে থাকে। তার নানীরাও অসুস্থ্য ও গরীব মানুষ। তিনি রুহিকে সাহায্য করতে আবেদন জানান।

ছোট্ট রুহির কণ্ঠে একটাই আকুতি সে বাঁচতে চায়, আবার বই-খাতা নিয়ে স্কুলে ফিরতে চায়, সবার মতো খেলাধুলা করতে চায়।

রুহির চিকিৎসার জন্য সমাজের হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। যোগাযোগ ও সহায়তা পাঠানোর জন্য: রুহির নানী আমিনর বেগম মোবাইল/(বিকাশ) ০১৩১০-৩২২৮৮৮।