মিষ্টি ও চিনির বন্ধুত্ব

মেয়েটির নাম মিষ্টি।

নামের মতোই ওর চেহারাও মিষ্টি,

কথাবার্তাও টইটুম্বুর মিষ্টি সুরে ভরা।

সদ্য প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হয়েছে।

এখন অ, আ, ক, খ শিখছে।

প্রতিদিন সকালে নীল-সাদা পোশাক পরে বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে টুপটাপ স্কুলে যায়।

মিষ্টির একটা বিড়াল আছে, নাম চিনি।

ও নিজেই নাম রেখেছে।

বলে, আমার নাম মিষ্টি, তাই ওর নাম হবে চিনি।

চিনি কালো-সাদা ডোরা কাটা, চকচকে চোখ দুটি সবসময় কৌতূহলে ভরা।

মিষ্টি আর চিনি সারাক্ষণ একসঙ্গে থাকে।

কখনো খেলায়, কখনো ঘুমে, আবার কখনো খাবার ভাগাভাগিতে সময় কাটায়।

মিষ্টি যখন বই খুলে পড়ে, চিনি পাশে বসে থাকে।

মাঝে মাঝে পাতায় থাবা মেরে যেন বলতে চায়, এই দিকটা ঠিক করে পড়ো।

রাতে মিষ্টি বিছানায় শুয়ে গল্প শোনে, চিনি তখন গুটিসুটি মেরে ওর পাশে ঘুমিয়ে পড়ে।

একদিন সকালে চারদিকে মিঠেল আলো।

মিষ্টি খুব সকালেই ঘুম থেকে উঠল।

আজ চিনির জন্য ফুল কুড়াবে।

উঠোনে গিয়ে দেখে, বকুল গাছের নিচে সাদা-হলুদ ফুলে পুরো মাটি যেন রঙিন কার্পেট হয়ে আছে।

সে খুশিতে নেচে উঠে ফুল কুড়িয়ে নেয়।

মিষ্টি ফুল কুড়িয়ে এনে ছোট একটা মালা গাঁথে।

মনোযোগ দিয়ে গাঁথার সময় চিনি পাশে বসে তার লেজ নাড়ায়, যেন সাহায্য করছে।

মালা শেষ হলে মিষ্টি বলল, চল চিনি, আজ তুমি রাজরানী হবে।

ও মালাটা চিনির গলায় পরিয়ে দেয়।

চিনি তখন গর্বে বুক ফুলিয়ে হাঁটে।

রোদ পড়ে তার গায়ে, ফুলের মালা দুলে ওঠে, দেখে মনে হয় সত্যিই ছোট্ট এক রাজরানী হেঁটে বেড়াচ্ছে।

মিষ্টি খুশিতে ছবি তোলে।

ওর ভাই ফেসবুকে সেই ছবি পোস্ট দেয় ‘আমার চিনি, আমার রাজরানী’ লিখে।

অনেকেই দেখে কমেন্ট করে, কী

সুন্দর বিড়াল!

মিষ্টি ভাবে, আমি ক’দিন পরেই ফেসবুক চালানো শিখে নেবো।

তারপর চিনির অনেক ছবি ফেসবুকে পোস্ট দেবো।

যেন পৃথিবীর সব লোকে দেখতে পায়।

আর বলে আমার চিনিই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বিড়াল। যে আমার প্রিয় বন্ধু।

সেদিন বিকেলে মিষ্টি আর চিনি বারান্দায় বসে সূর্য ডোবা দেখে।

রঙিন আকাশে লাল আভা পড়ে দুজনের মুখে।

মনে হয় যেন পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বন্ধুত্বটা ওদেরই।

চিনি তখন মিষ্টির পায়ে আলতো করে খোঁচা দেয়।

মিষ্টি বুঝতে পারে চিনি তাকে কোলে নিতে বলছে।

মিষ্টি চিনিকে কোলে নিয়ে আদর করতে থাকে।