যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষে দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা চললেও এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ। বিশেষ করে পাঁচটি প্রধান ইস্যুতে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে আলোচনা এখন কার্যত স্থবির হয়ে আছে।
পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবি হলো ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। তবে তেহরান এই দাবিতে অসম্মতি জানিয়ে বলছে, যেকোনো ধরনের বিধিনিষেধ কেবল একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য হতে পারে। স্থায়ীভাবে নিজেদের কর্মসূচি বন্ধের পক্ষপাতি নয় তারা।
ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে বিতর্ক
ইরানের হাতে থাকা ৪০০ কেজি (৮৮০ পাউন্ড) উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, এই মজুত করা ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে দিয়ে দিতে হবে। তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা তাদের ইউরেনিয়াম মজুতের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ মেনে নেবে না।
হরমুজ প্রণালী ও অবরোধ
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরানের সাফ কথা, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে তাদের বন্দরের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে। বিপরীতে ট্রাম্পের অবস্থান হলো চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।
জব্দকৃত সম্পদ ও নিষেধাজ্ঞা
একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানি কর্মকর্তারা তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দ হওয়া প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সম্পদ অবমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া কোনো সমঝোতা টেকসই হবে না।
২৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি
আলোচনার টেবিলে সবচেয়ে কঠিন শর্ত হিসেবে এসেছে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন সময়ের হামলায় ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ বাবদ তেহরান এখন প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার দাবি করছে। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলাতে এই বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।