‘আগে ওদের মারবা, তারপরে আমারে দাওয়াত দিয়া খাওয়াবা’

‘তোমরা মারামারি করে একসময় মার খাইছো, আরেক সময় দিছো। এরপর ওদের মার দিবা তারপর আমার জন্য খাবার দাবারের ব্যবস্থা করবা’- এমন একটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ফরিদপুরজুড়ে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার পাচুরিয়া ইউনিয়নের চরভাটপাড়া গ্রামে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এমন কথা বলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক এমপি, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। তার এ মন্ত্যবটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে।

নিজদলের প্রতিপক্ষের ওপর এমন হামলার উসকানি দেওয়ার ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। অনেকেই তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির দুটি গ্রুপ বিদ্যমান। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং অন্য গ্রুপটির নেতৃত্ব দেন বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু। দীর্ঘদিন ধরে এ আসনের তিনটি উপজেলাতেই দুটি গ্রুপ বিরাজমান। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু ও খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। পরে খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। যদিও নির্বাচনে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম জামায়াত প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। পরাজিত হবার পর খন্দকার নাসিরুল ইসরাম তার পরাজয়ের জন্য ঝুনু গ্রুপকে দায়ি করেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এ দুটি গ্রুপের মাঝে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব সংঘর্ষে ১ জন নিহতসহ কয়েক শ নেতাকর্মী আহত হয়। সেসময় একে অন্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে একাধিক লাঠি মিছিলসহ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের প্রকাশ্য ঘোষনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে শামসুদ্দিন মিয়া জুনু গ্রুপের কর্মী-সমর্থকেরা। নামপ্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা জানান, খন্দকার নাসিরুল ইসলাম আওয়ামীলীগের সাথে আঁতাত করে রাজনীতি করে যাচ্ছেন। বিএনপির ত্যাগী নেতাদের মাইনাস করে তিনি তার অনুগত ব্যক্তিদের দিয়ে দল চালানোর চেষ্টা করছেন। তার বিরুদ্ধে থাকায় বিভিন্ন সময় কয়েক শ নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করিয়েছেন। খন্দকার নাসিরুল ইসলামের লাগাম টানা না গেলে ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ বিষয়ে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি চক্র অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমাকে বিতর্কিত করতে চক্রটি মিথ্যা অপপ্রচারে নেমেছে। এআই প্রযুক্ত ব্যবহার করে এ ভিডিওটা বানিয়ে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়া হয়েছে বলে তিনি জানান।