ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা

ইরান যুদ্ধের কারণে খানিকটা আড়ালে পড়ে গেছে ইউক্রেন যুদ্ধ। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধের দৃশ্যত কোনো লক্ষণ নেই; উল্টো ক্রমশ ইউক্রেনজুড়ে হামলার মাত্রা বাড়াচ্ছে রাশিয়া। গত শনিবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ৬৬০টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে মস্কো। এতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। শনিবার দিন ও রাতে দিনিপ্রো শহরে পৃথকভাবে তিনবার হামলা চালানো হয়েছে। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেকসান্দ্র হানঝা জানিয়েছেন, শহরটিতে আটজন নিহত ও আরও ৪৯ জন আহত হয়েছে। এসব হামলায় শহরটির একটি আবাসিক ভবনের বড় অংশ ধসে পড়ে, এখান থেকে চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্র্তৃপক্ষ জানায়, উদ্ধারকাজ চলাকালে দিনের বেলায়ই একই স্থানে দ্বিতীয়বার হামলা চালায় রুশ বাহিনী। এ হামলায় আরও ১ জন নিহত ও ৭ জন আহত হয়।

হানঝা জানান, মধ্যরাতের ঠিক আগে আরেকবার হামলা চালানো হয়। এ হামলায় আরও আটজন আহত হয়। হামলায় একটি অবকাঠামোতে আগুন ধরে যায়। রয়টার্স জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রতি রাতেই মস্কো কয়েক ডজন ড্রোন ব্যবহার করে ছোট ছোট আক্রমণ চালাচ্ছিল; তবে মাঝে মাঝেই কয়েকশ ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বড় আকারের হামলা চালাচ্ছে তারা। শনিবার সকালে দিনিপ্রোর আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। শহরের বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। উদ্ধারকারীরা যখন ধ্বংসস্তূপের ভেতর কাজ করছিলেন, তখন রয়টার্সের এক প্রতিবেদক ধ্বংস হয়ে যাওয়া অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ওপর আকাশে একটি রুশ ড্রোন ধ্বংস হতে দেখেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতে তারা ইউক্রেনের সামরিক শিল্প এলাকা ও জ্বালানি লক্ষ্যস্থলগুলোতে হামলা চালিয়েছে। তবে দিনিপ্রোর আবাসিক ভবনে হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি মস্কো।

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিডেনকো বলেন, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে এই সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ক্রমাগত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং আবাসিক ভবনকে লক্ষ্যস্থল করছে। ধ্বংস হওয়া ওই ভবনের উল্টো পাশের এক বাসিন্দা আলিয়োনা কাট্রুশোভা (৩৭) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাশিয়ার মানুষ চায় তাদের সন্তানরা উষ্ণ বিছানায় শান্তিতে ঘুমাক, তাদের সবকিছু ঠিকঠাক থাকুক। আর তারা চেয়ে চেয়ে দেখুক কীভাবে রাশিয়া আমাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করে আমাদের ঘরছাড়া করছে।

উদ্ধারকাজ চলার সময় আলিয়োনার স্বামী ওলেহ বলেন, মনে হচ্ছে যেন দ্বিতীয় জীবন পেলাম। উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ অঞ্চলের গভর্নর জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সেখানে ২ জন নিহত এবং ৭ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় বলেন এই ধরনের প্রতিটি হামলা আমাদের অংশীদারদের মনে করিয়ে দেয়, এখন দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার সময়। দ্রুত আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। ইউক্রেন সীমান্ত সংলগ্ন  ন্যাটো সদস্য দেশ রোমানিয়াতেও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি বিদ্যুৎ খুঁটি ও একটি বাড়ির সংযুক্ত অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবুর্গ শহরে একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন আবাসিক ভবনে আছড়ে পড়ায় কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রুশ কর্র্তৃপক্ষ। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার রাতের হামলায় রাশিয়া ৬১৯টি ড্রোন ও ৪৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে ৫৮০টি ড্রোন ও ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে কিয়েভ। গত শনিবার আজারবাইজান সফরে থাকা জেলেনস্কি দেশটিতে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।