হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজন হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি সাতজনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। একই সময়ে ‘সন্দেহজনক’ হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪২১ জন এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ১৪৩ জনের। সরকারি হিসেবে, গত ৪৩ দিনে হাম সন্দেহে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৬ জনে, নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৪৩ শিশুর। হামজনিত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৫৯ জনে।

গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতির নিয়মিত তথ্য দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া আট শিশুর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ছয়জন, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের একজন করে মৃত্যু হয়েছে।

অধিদপ্তরের পাঠানো তথ্যে বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে হামে মৃত্যু ও শনাক্ত বেশি ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় ‘সন্দেহজনক’ আক্রান্তের মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে; ৬৮৪ জন। এর মধ্যে ৯১ জন রোগীকে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। এর পরেই রাজশাহী বিভাগে ২৪৪ জন। এই বিভাগে নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৩০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮৯ জনের মধ্যে ১১ জন, খুলনাতে ৯৯ জনের মধ্যে ১০ জন এবং রংপুরে ৯ জনের মধ্যে একজনের নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ১৮ জন, বরিশালে ১০৯ জন এবং সিলেট বিভাগে ৬৯ জনের মধ্যে সন্দেহজনক উপসর্গ পাওয়া গেলেও এসব বিভাগে নিশ্চিত কোনো হামের রোগী পাওয়া যায়নি।

সরকারি হিসেবে বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ‘সন্দেহজনক হামে’ সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে; ১০২ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ২৮ শিশুর। এরপরেই রয়েছে রাজশাহী বিভাগে ৬৮ জন, চট্টগ্রামে ২০ জন, খুলনাতে ১১ জন, সিলেটে ৯ জন এবং বরিশালে ছয়জন ।

বগুড়া : বগুড়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৫০ শয্যার একটি বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। গত ২৯ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৮৫ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে এবং বর্তমানে ৩৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ পর্যন্ত ১২৩টি নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলেও মাত্র চার জনের শরীরে হামের অস্তিত্ব বা পজিটিভ রেজাল্ট পাওয়া গেছে।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খানের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সরা আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।