বৃষ্টি-লিমনের মরদেহ সরাতে এআইয়ের সাহায্য নেয় খুনি!

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যায় অভিযুক্ত খুনি কীভাবে মরদেহ সরানো যায়, তা জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটকে জিজ্ঞেস করেছিল। তাঁর ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে তদন্তকারীরা।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের তদন্তকারীরা।

সিবিএস নিউজের খবরে বলা হয়, ফ্লোরিডার ট্যাম্পা বে এলাকায় বৃষ্টির মরদেহের খোঁজ চালানোর সময় মানবদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব দেহাংশ বৃষ্টির কিনা, তা পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এখান থেকেই এর আগে নিহত লিমনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় হিশাম আবুঘারবিয়েহ (২৬) নামে এক যুবককে শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নিহত লিমনের রুমমেট ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করে পরিকল্পিত দুটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অপরাধে জামিন ছাড়াই তাকে আটক করা হয়। লিমনের মরদেহ শুক্রবার ওই সেতুতে একাধিক কালো ময়লার ব্যাগে পাওয়া যায় এবং তা পচনের দিকে যাচ্ছিল।

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ১৩ এপ্রিল হিশাম এআই চ্যাটবটকে জানতে চান, কাউকে ‘কালো ময়লার ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দিলে কী হবে?’ এআই চ্যাটবট এটি বিপজ্জনক বলে সতর্ক করলে তিনি আবার প্রশ্ন করেন, ‘তারা কীভাবে বিষয়টি জানতে পারবে?’

আরও ডিজিটাল তথ্য থেকে হত্যার পরিকল্পনার ইঙ্গিত পেয়েছে তদন্তকারীরা। ১৫ এপ্রিল শিক্ষার্থীদ্বয় নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন তিনি জানতে চান গাড়ির ভিআইএন নম্বর পরিবর্তন করা যায় কি না এবং লাইসেন্স ছাড়া বাসায় আগ্নেয়াস্ত্র রাখা সম্ভব কি না।

১৭ এপ্রিল ভোরের দিকে হিশাম হিলসবোরো রিভার স্টেট পার্কে গাড়ি তল্লাশি করা হয় কি না, সে বিষয়ে খোঁজ নেয়। একই রাতে তাঁর মোবাইল ফোনের অবস্থান ওই সেতু এলাকায় শনাক্ত হয়, যেখানে পরে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

লিমন ও অভিযুক্তের শেয়ার করা অ্যাপার্টমেন্টে ফরেনসিক তদন্তে সহিংসতার আলামত পাওয়া গেছে। একটি বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহার করে প্রবেশদ্বার থেকে রান্নাঘর হয়ে করিডর পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য রক্তের দাগ শনাক্ত করেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্তের শোবার ঘরের মেঝেতে মানুষের শরীরের আকারের মতো দুটি আলাদা রক্তের দাগও পাওয়া গেছে।

আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, হিশামের পায়েও একাধিক ক্ষতচিহ্ন ছিল, যা সংঘর্ষের ইঙ্গিত দেয়। ময়নাতদন্তে নিশ্চিত করা হয়েছে, লিমনের মৃত্যু হয়েছে ‘তীক্ষ্ণ অস্ত্রের একাধিক আঘাতে’-যার মধ্যে ছুরিকাঘাত ও গভীর ক্ষত রয়েছে। ঘটনাটিকে হত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

হিশামের পক্ষে একজন সরকারি আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। এখনো তাঁর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আগামী মঙ্গলবার তাকে আবার আদালতে তোলা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, লিমন ও বৃষ্টিকে সর্বশেষ দেখা যায় ১৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশপাশে। ১৭ এপ্রিল এক পারিবারিক বন্ধু তাদের নিখোঁজের খবর দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ।

পরে শুক্রবার ট্যাম্পা বে এলাকার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃষ্টির মরদেহ এখনো উদ্ধার করা না গেলেও তাঁর ভাই জানান, বৃষ্টি আর বেঁচে নেই।

লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করছিল ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে। অন্যদিকে বৃষ্টি সেখানে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছিল।