কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মসজিদ কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ আহত হয়েছেন ৪ জন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল তিনটায় উপজেলার পশ্চিম হুগুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হুগুলিয়া গ্রামের হাজী জৈয়নুদ্দিন ওয়াকফ এস্টেটের মারকাজ মসজিদ ও মক্তবের কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলছিল দুই পক্ষের মধ্যে। দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে একমাস ধরে মসজিদ তালাবদ্ধ। কয়েকদিন আগে হুগুলিয়া গ্রামের লোকজন মোতয়াল্লী শাখাওয়াত ও মোস্তফার হাত থেকে মসজিদ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন।
আজ সোমবার শাখাওয়াত ও মোস্তফা তাদের লোকজন নিয়ে মসজিদ দখল নিতে গেলে গ্রামবাসীর সঙ্গে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে হুগুলিয়া গ্রামের হাসান আহমেদ, মুজিবুর রহমান, মিজানুর রহমান ও সেলিনা আক্তার নামে এক নারী আহত হয়েছেন।
হুগুলিয়া গ্রামের মনির হোসেন, হুমায়ুন কবির ও খলিল মিয়া জানান, এক শ বছর আগে আমাদের গ্রামের হাজী জৈয়নুদ্দিন তার নিজের নামে ওয়াকফ এস্টেট, মসজিদ এবং মাদরাসার জন্য ১২ কানি (তিন একর) জমি দান করে গেছেন। দানকৃত দলিলে উল্লেখ করা আছে সমাজের ১২ জন মাতব্বর এবং তাদের মধ্যে একজন পরহেজগার আলেমকে মোতাওয়াল্লি করে কমিটি হবে। সেই মতে গ্রামের মুফতি ফজলুল হক আমিনীকে মোতাওয়াল্লি করা হয়েছিল। ২০১২ সালে তিনি মারা যান। এরপর তার মেয়ের জামাই শাখাওয়াত পরিচালনা শুরু করেন। কিছু দিন আগে গ্রামবাসীকে না জানিয়ে অন্য উপজেলার লোকজনসহ শাখাওয়াত নিজেকে মোতয়াল্লী করে কুমিল্লায় কমিটি জমা দেন। গ্রামবাসী একমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশও করেছে। শাখাওয়াত অন্য উপজেলার, তিনি আমাদের গ্রামের জামাই। আজ বহিরাগত লোক নিয়ে মসজিদ দখল করতে এলে গ্রামবাসী বাধা দিলে আমাদের ওপর হামলা চালায়।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে মুফতি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি সকাল থেকেই ঢাকায় আছি। মসজিদের কমিটি নিয়ে মারামারির ঘটনার কিছুই জানি না। আর ওয়াকফ এস্টেটের কমিটি গোপনে করার কোনও সুযোগ নেই। মারকাজ মসজিদটি তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপের পুর্বের দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় আজ গ্রামবাসীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি আব্দুল বারি বলেন, মারকাজ মসজিদ নিয়ে দ্বন্দ্বে আজ দুইপক্ষের লোকজন উত্তেজিত অবস্থানে ছিল। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। আর তাদের দ্বন্দ্বে মারকাজ মসজিদটি একমাস যাবৎ বন্ধ। যা শুনেছি দীর্ঘদিন দুইপক্ষের দ্বন্দ্ব চলছে।