সিরিয়ায় বাশার আল আসাদের বিচার শুরু

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদ ও তার সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত রবিবার দামেস্কের একটি আদালতে প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, সরকার পতনের পর আসাদ ও তার ভাই মাহের আল আসাদ ইতিমধ্যে সিরিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার শুরু হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের মধ্যে আসাদের খালাতো ভাই সাবেক ব্রিগেডিয়ার আতেফ নাজিব আদালতে সরাসরি হাজির ছিলেন।

নাজিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১১ সালের সিরিয়ার গণআন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তিনি ‘সিরীয় জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ’ করেছেন বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে। শুনানি শুরু করে বিচারক ফখর আল-দীন আল-আরিয়ান বলেন, ‘আমরা সিরিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন বিচার প্রক্রিয়ার প্রথম বিচার কার্যক্রম শুরু করছি। এতে হেফাজতে থাকা এবং আদালতে উপস্থিত একজন আসামির পাশাপাশি বিচার থেকে পালিয়ে যাওয়া আসামিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আসাদ সরকারের পতনের পর গ্রেপ্তার হওয়া নাজিবকে দামেস্কের আদালতে ডোরাকাটা কারাবন্দির পোশাকে হাজির করা হয়। তিনি এর আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশে সিরিয়ার রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান ছিলেন। ২০১১ সালে ওই দারাতেই সিরিয়ার গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহী বাহিনী দামেস্কের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালে আসাদ মস্কোতে পালিয়ে যান। এর মধ্য দিয়ে তার পরিবারের পাঁচ দশকের বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটে।

১৪ বছরের যুদ্ধে বিধ্বস্ত এই দেশে বিচার প্রক্রিয়া এখনো ধীরগতির। রবিবারের শুনানিতে বিচারক নাজিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। শুনানিটি ‘প্রস্তুতিমূলক প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া’ নিয়েই সীমাবদ্ধ ছিল। বিচারক আগামী ১০ মে দ্বিতীয় শুনানির তারিখ ঘোষণা করেন। বিচারিক সূত্রটি জানায়, সরাসরি উপস্থিত থেকে যাদের বিচার হবে, তাদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের আরেক আত্মীয় ওয়াসিম আল-আসাদ, সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আহমেদ বদরুদ্দিন হাসসুন এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নতুন কর্র্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। এই বিচার এমন সময়ে হচ্ছে, যখন সিরিয়ার কর্র্তৃপক্ষ দেখাতে চাইছে যে অন্তর্বর্তীকালীন বিচার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ২০১৩ সালের তাদামোন গণহত্যার প্রধান সন্দেহভাজন আমজাদ ইউসুফকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনায় প্রায় ৩০০ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল।