বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আর্থ্রাইটিস একক রোগ নয়, বরং পেশিবহুল ও কংকালতন্ত্রের (Musculoskeletal) এমন এক গুচ্ছ অবস্থাকে বোঝায়, যা শরীরের জয়েন্ট বা সন্ধিস্থলকে প্রভাবিত করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী আর্থ্রাইটিসের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো :
এটি মূলত জয়েন্টের এমন একটি অবস্থা যেখানে
১. ব্যথা, ২. ফোলাভাব, ৩. জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া পরিলক্ষিত হয়, যা মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
আর্থ্রাইটিস ধরন
আর্থ্রাইটিস ১০০টিরও বেশি প্রকার আছে বা রয়েছে। প্রতিটি প্রকার শরীরকে ভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। যেমন
অসটিও আর্থ্রাইটিস : এটি জয়েন্টের ভেতরের Cartilage ক্ষয় হয়ে যাওয়াকে বোঝায়।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস : এটি একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা নিজেই নিজেকে এটাক করে।
সিরাম ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এটাকে বলে Gouty arthritis.
অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস : এটি টোটাল মেরুদ- শক্ত করে ফেলে। যা HLAB-27 Positive থাকে।
সারিয়াটিক আর্থ্রাইটিস : এটি ত্বক ও গাটকে আক্রান্ত করে।
জুভেনাইল আর্থ্রাইটিস (Juvenile arthritis) : এটি ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরদের মধ্যে দেখা দেয়।
এ ছাড়াও Joint ইনজুরি লিগামেন্ট ইনজুরি বা ফ্র্যাকচারের পরে আর্থ্রাইটিস হতে পারে।
সংক্রামণ আর্থ্রাইটিস : কিছু ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস জয়েন্ট সংক্রমণ ঘটিয়ে Septic Arthritis করতে পারে।
বংশগত কারণ : পরিবারে কারও থাকলে অন্যদেরও হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
আর্থ্রাইটিসে ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন : আর্থ্রাইটিস রোগ ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর লক্ষ্য হলো ব্যথা কমানো, ফোলা কমানো, জয়েন্টের নড়াচড়া ঠিক রাখা এবং রোগীকে দৈনন্দিন কাজে ফিরিয়ে আনা।
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা যেমন :
১. ব্যথা কমানো : হট থেরাপি, কোল্ড থেরাপি, আল্ট্রা সাউন্ড থেরাপি, টিইএনএস।
রেঞ্জ অব মোশন ব্যায়াম :
রোগী নিজে নিজে ব্যায়াম করবে, ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীকে ব্যায়াম করিয়ে দেবে,
মাংসপেশি মোচড়ানো টাইপের মতো ব্যায়াম, মাসেল স্ট্রেনথেনিং এক্সারসাইজ : (যেমন : অসটিও আর্থ্রাইটিস)
কোয়াড্রিসেপস শক্তিশালী করার ব্যায়াম, হ্যামস্ট্রিং ব্যায়াম,
আইসোমেট্রিক ব্যায়াম, এরোবিক এক্সারসাইজ, হাঁটা, সাইক্লি ও সাঁতার।
মেনুয়াল থেরাপি :
জয়েন্ট মোবিলাইজেশন (জয়েন্ট সচল করার পদ্ধতি) সফট টিস্যু মোবিলাইজেশন (নরম টিস্যু সচল করার পদ্ধতি)
রিহ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রাম:
১. এডিএল ট্রেনিং, ২. এসিসটিভ ডিভাইস, ৩. জয়েন্ট প্রাটেকনিক, ৪. পেশেন্ট এডুকেশন।