কর ছাড় চায় বিএসএমএ

নানামুখী সংকটের কারণে দেশের স্টিল (রড) শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে খাত সংশ্লিষ্টরা সরকারের কাছে কর ছাড় চেয়েছেন। গতকাল সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এ প্রস্তাব দিয়েছেন, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তিনি লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। এছাড়া সভায় স্টিল শিল্পের বিভিন্ন ধরনের ভ্যাট কমিয়ে আনার দাবি জানানো হয়।

জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, ডলার সংকট, বিভিন্ন ধরনের ব্যয়বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অস্থিরতা, সুদের হার বৃদ্ধি এবং কর হার বাড়ার কারণে দেশের স্টিল (রড) শিল্প বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিগত ৭ বছরে এই শিল্পে প্রতি ৯০ হাজার টাকা বিক্রির বিপরীতে সাধারণ আয়কর হিসেবে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা টিকছে মাত্র ৬৭৯ টাকা। আর অগ্রিম কর দিলে ১ হাজার ৫২৪ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

তিনি আসন্ন বাজেটে এ খাতে কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর কমানো, রড আমদানিতে টিডিএস (উৎসে আয়কর) আগের হারে নির্ধারণ, প্রস্তাবিত টার্নওভার ট্যাক্স অর্ধেকে নামানো এবং অগ্রিম আয়কর সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন।

বিএসএমএ সভাপতি বলেন, স্টিল শিল্প একটি ভারী শিল্প। স্টিল উৎপাদন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং এই উৎপাদনে প্রচুর মূলধন বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। অথচ বিগত কয়েক বছরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, কোভিড-১৯ মহামারী, অর্থনৈতিক মন্দা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, ডলার সংকটে এলসি খুলতে জটিলতা, বিনিয়োগজনিত লোকসান, চলতি মূলধনের প্রয়োজনীয়তা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি, গ্যাসের মূল্য ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি, বিদ্যুতে ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি, ব্যাংকের সুদ হার বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এবং দেশের কাঠামো উন্নয়ন উল্লেখযোগ্য হরে কমে যাওয়ায় স্টিল শিল্পে প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এতে বিগত ৭ বছর ধরে এই শিল্প টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।