যদি ট্রাম্প ও ভ্যান্স দুজনেই না থাকেন, তবে আমেরিকার হাল ধরবেন কে?

ওয়াশিংটনের একটি জমকালো অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে যদি প্রেসিডেন্ট বা তার প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরা কোনো কারণে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন, তবে দেশটির শাসনভার কার হাতে যাবে? মার্কিন আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তরের একটি সুনির্দিষ্ট এবং পরিষ্কার ‘লাইন অফ সাকসেশন’ বা উত্তরসূরির ক্রমতালিকা রয়েছে।

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, উত্তরসূরির তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং তাদের অবশ্যই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক হতে হবে। এছাড়া তাদের অন্তত ১৪ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তালিকার প্রতিটি সদস্যের নিয়োগ অবশ্যই সিনেট কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।

সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মৃত্যু হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময় দায়িত্ব পালন করবেন এবং শূন্য হওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের জন্য একজনকে মনোনীত করবেন।

যদি ট্রাম্প এবং ভ্যান্স উভয়েই দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তবে ক্ষমতার পরবর্তী দাবিদার হলেন হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার মাইক জনসন। তিনিও যদি কোনো কারণে অক্ষম হন, তবে দায়িত্ব পাবেন সিনেট প্রেসিডেন্ট ‘প্রো টেম্পোর’। বর্তমানে এই পদে রয়েছেন আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ৯২ বছর বয়সী রিপাবলিকান সিনেটর চাক গ্রাসলি।

এরপর মন্ত্রণালয়ের বয়স বা জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে মন্ত্রিসভার সদস্যরা পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পাবেন। এই তালিকায় সবার আগে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, এরপর যথাক্রমে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। পরবর্তী অবস্থানে অ্যাটর্নি জেনারেল থাকলেও টড ব্ল্যাঞ্চের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা থাকতে পারে, কারণ তিনি বিভাগীয় প্রধান হিসেবে এখনো পূর্ণ অনুমোদন পাননি। এরপর তালিকায় রয়েছেন স্বরাষ্ট্র, কৃষি, বাণিজ্য, শ্রম, স্বাস্থ্য, আবাসন, পরিবহন, জ্বালানি, শিক্ষা, ভেটেরান অ্যাফেয়ার্স এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী।

কোনো বড় ধরনের হামলার ঘটনায় সরকারের সব শীর্ষ নেতা যাতে একসঙ্গে প্রাণ না হারান, সেজন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে (যেমন: স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণ) অন্তত একজন ক্যাবিনেট সদস্যকে অনুপস্থিত রাখা হয়, যাকে বলা হয় ‘ডেজিগনেটেড সারভাইভার’। ১৯৮০-এর দশক থেকে চলে আসা এই রীতি অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি একটি গোপন ও নিরাপদ স্থানে অবস্থান করেন যাতে বিপর্যয়ের সময় তিনি দেশের হাল ধরতে পারেন।

গত শনিবারের নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, স্পিকার জনসনসহ মন্ত্রিসভার প্রায় সব শীর্ষ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। যদি সেদিন হামলাকারী সফল হতো, তবে যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতো। তবে সৌভাগ্যবশত, সিনেটর চাক গ্রাসলি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকায় উত্তরসূরির তালিকার অন্তত একজন ব্যক্তি নিরাপদ অবস্থানে ছিলেন।

সূত্র: রয়টার্স