রোমে এক ঐতিহাসিক সাক্ষাতে ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও এবং চার্চ অব ইংল্যান্ডের নতুন আর্চবিশপ সারাহ মুলালি প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ করেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভ্যাটিকানের অ্যাপোস্টলিক প্যালেসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই ধর্মীয় নেতা উপহার বিনিময় করেন এবং একসঙ্গে প্রার্থনাও করেন।
মুলালি চার্চ অব ইংল্যান্ডের ইতিহাসে প্রথম নারী আর্চবিশপ, যিনি বিশ্বের প্রায় ৮ কোটি ৫০ লাখ অ্যাংলিকান খ্রিষ্টানের আধ্যাত্মিক নেতা। অন্যদিকে পোপ লিও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রথম পোপ, যিনি প্রায় ১৪০ কোটি ক্যাথলিকের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
বৈঠকের আগে দুই নেতা ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেন, পরে ১৭ শতকের একটি চ্যাপেলে গিয়ে একসঙ্গে প্রার্থনায় অংশ নেন।
মুলালি পোপ লিওর সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরোধী ও স্বৈরাচারবিরোধী বক্তব্যের প্রশংসা করেন এবং বলেন, বর্তমান সময়ে এমন বার্তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিনি এটিকে শান্তি ও মানবকল্যাণের আহ্বান হিসেবে উল্লেখ করেন।
পোপ লিও বলেন, দুই চার্চের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে অগ্রগতি হয়েছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এসব বাধা যেন বিশ্বে খ্রিষ্টধর্মের বার্তা প্রচারে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।
মুলালি এই সাক্ষাৎকে 'উষ্ণ, উৎসাহব্যঞ্জক এবং আশাব্যঞ্জক' বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, নারী হিসেবে তার নিয়োগ অনেকের কাছে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে এবং দুই চার্চের সম্পর্ক আরও গভীর করার পথ খুলে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৫৩৪ সালে রাজা অষ্টম হেনরির সময় চার্চ অব ইংল্যান্ড ক্যাথলিক চার্চ থেকে আলাদা হয়। দীর্ঘদিন দুই চার্চের মধ্যে বিভাজন থাকলেও সাম্প্রতিক দশকগুলোতে সম্পর্ক কিছুটা উন্নত হয়েছে। এছাড়া একই দিনে মুলালি পোপের সঙ্গে যৌথভাবে প্রার্থনায় অংশ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, যেখানে তারা বিশ্বাস, সহনশীলতা ও সেবার মূল্যবোধ তুলে ধরেন।
এর আগে গত অক্টোবর মাসে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ভ্যাটিকান সফরে গিয়ে পোপ লিওর সঙ্গে যৌথ প্রার্থনায় অংশ নিয়েছিলেন, যা কয়েক শতাব্দীর মধ্যে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।