পিরোজপুরের নেছারাবাদের স্বরূপকাঠি পৌরসভার হাটবাজার ইজারা কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। রেকর্ডসংখ্যক টেন্ডার সিডিউল বিক্রি হলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র তিন ব্যক্তি ৯টির মধ্যে ৮টি হাটবাজারের ইজারা নিয়েছেন—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি ৯টি হাটবাজার ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রথম ধাপে ২৯ জানুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৯৩টি সিডিউল বিক্রি হয়, যার মূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। কিন্তু ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জমাদানের দিনে একটি দরপত্রও জমা পড়েনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেদিন একটি প্রভাবশালী অংশ দরপত্র জমা দিতে বাধা দেয়। এমনকি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে দরপত্র জমা না দেওয়ার জন্য বলা হয়। কেউ কেউ সড়কপথে কাগজপত্র নিয়ে আসার সময় বাধার মুখে পড়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপ (২৩ ফেব্রুয়ারি–২ মার্চ) ও তৃতীয় ধাপে (৯ মার্চ–১৫ মার্চ) আবার সিডিউল বিক্রি করা হলেও দুই ধাপে কেউ অংশ নেয়নি। শেষ ধাপে ১৬ মার্চ গোপনে মাত্র তিন ব্যক্তি— বাদল, শফিকুল ইসলাম এবং মনিরুল ইসলাম মামুন—মোট ২৭টি সিডিউল কিনে দরপত্র জমা দেন এবং ৮টি হাটবাজারের ইজারা লাভ করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানিয়েছে, পরিকল্পিতভাবে প্রতিযোগিতা বন্ধ করে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, যার ফলে সরকার সম্ভাব্য বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেন।
অভিযোগ আছে, তিনি তার ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে অন্য দরদাতাদের নিরুৎসাহিত করে ইজারা প্রক্রিয়া প্রভাবিত করেছেন। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কাউকে দরপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়নি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এদিকে পৌর বিএনপির একাধিক নেতা বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে অনেকেই সিডিউল কিনলেও পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে তাদের দরপত্র জমা না দিতে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, প্রথম ধাপে এত সিডিউল বিক্রি হলেও কোনও দরপত্র জমা না পড়া অস্বাভাবিক। তবে লিখিত অভিযোগ না পেলে প্রশাসনের পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন।
অন্যদিকে, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন করে আরও অভিযোগ উঠেছে। বানারীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত মিডডে মিল কর্মসূচিতে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের কাঁচা কলা খেতে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, অন্যান্য খাবার সরবরাহ নিয়েও অনিয়ম ও নিম্নমানের খাদ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শুনেছি তিনি মেয়র নির্বাচন করবেন। মেয়র হওয়ার আগেই যেভাবে সরকারি টেন্ডারে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠছে, তিনি মেয়র হলে পরিস্থিতি কী হবে তা নিয়ে আমরা চিন্তিত। এদিকে স্থানীয়দের কেউ কেউ আশা প্রকাশ করেছেন যে বিষয়টি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী সঠিক ও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবেন। বিষয়গুলো নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।