উজানের পাহাড়ি ঢল আর টানা বর্ষণে ভাসছে নেত্রকোনার হাওড়া অঞ্চল। চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে মাইলের পর মাইল সোনালি ধানের ক্ষেত। বিশেষ করে জেলার খালিয়াজুরী, মদন ও মোহনগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো পাকা ধানের জমি পানির নিচে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে মদনের উচিতপুর, গোবিন্দশ্রী, বাগরার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে দেখা গেছে, বুক সমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন কৃষকরা। ধান আধাপাকা হলেও বানের পানির হাত থেকে ফসল বাঁচাতে বাধ্য হয়েই এই পরিশ্রমে নেমেছেন তারা। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার পর এমন দুর্যোগ আর দেখেননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
অপরদিকে কৃষকদের অভিযোগ, একদিকে ফসল হারানোর ভয়, অন্যদিকে বাজারে ধানের ন্যায্য দাম নেই। বর্তমানে বাজারে ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মণ দরে, যা উৎপাদন খরচের চেয়েও অনেক কম।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় এবার প্রায় ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি এখন পানির নিচে।
নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, উজানের ঢলে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির ধান ইতিমধ্যে জলমগ্ন হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছি। বিশেষ করে যেসব ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে ফেলার জন্য বলা হচ্ছে। নতুন করে বৃষ্টি না হলে এবং পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করছি।
কৃষি বিভাগ আশার কথা বললেও হাওরের কৃষকরা কাটছেন চরম উদ্বেগ। শ্রমিক সংকট এবং অস্বাভাবিক কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় আগামী দিনে ঋণের বোঝা কীভাবে শোধ করবেন, তা নিয়ে দিশেহারা হাজারো পরিবার।